আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে কিছু নেই– ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, দেশ গভীল সঙ্কটে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে কিছু নেই। সরকারের অর্দূরদর্শিতা ও একগুয়েমীই দায়ী। আল্লামা আহমদ শফী দা.বা.-এর ৫ মে’র শান্তিপূর্ণ অবরোধে হত্যাকান্ড, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি গভীররাতে লোকচক্ষুর আড়ালে নিরীহ আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষকে পাখির মত গুলি করে শহীদ ও শত শত মানুষকে আহত করার দায়ভার সরকার কিছুতেই এড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, এ যে হত্যাকান্ড নয়, গণহত্যা। এই হত্যাকান্ডে নিহত ও আহত সংখ্যা কত তা জাতিকে জানাতে হবে, দেশময় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা দুর করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপুরণ দিতে হবে। তিনি জনগণকে ধৈর্যধারণ করার আহ্বান জানান সেই সাথে সরকারকেও বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়ার জন্য আহ্বান জানান।

আজ সোমবার বিকালে পুরানা পল্টনস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মজলিসে আমেলার এক জরুরী সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা পূর্বক এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, মুহতারাম আমীরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোঃ আশরাফ আলী আকন, কেন্দ্রীয় নেতা ও নগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ, কেএম আতিকুর রহমান, এ্যাডভোকেট শেখ লুৎফুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন ও মো: বরকত উল্লাহ লতিফ প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে প্রিন্সিপাল মাদানী আরো বলেন, ৫ মে’র অবরোধ চলাকালে দৃস্কৃতিকারী কর্তৃক ভাংচুর, লুট-তরাজ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু তা না করে ঢালাওভাবে নিরীহ মুসল্লি, দাড়ি-টুপিওয়ালা ও কওমী মাদরাসাগুলোকে দায়ী করে মাদরাসায় হামলা কোনক্রমেই মেনে নেয়া যায় না। সেই সাথে সরকার দলীয় ক্যাডারদের দ্বারা নিরীহ দাঁড়ি-টুপিওয়ালাদের হয়রানী ও নির্যাতন করার ঘটনা ঘটছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি আরো বলেন, আলেম-ওলামাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে কোন শক্তিই টিকেনি, বর্তমান সরকারও টিকবে না। তিনি নিরীহ আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন ও কওমী মাদরাসায় হামলা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়াও দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আগামী ৯, ১০ ও ১১ মে ২০১৩ মিয়ানমার অভিমুখে ঘোষিত লংমার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।