আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে জেলা ইজতেমা সমাপ্ত আমীন আমীন ধ্বনিতে প্রকম্পিত বরিশাল

দ্বীনের পথে চলার আহবান, বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমগ্র মুসলিম জাতির কল্যান কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে এখানে তিনদিনব্যাপী আঞ্চলিক পর্যায়ের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর নবগ্রাম সড়কের সরদার পাড়া মাঠে এ আখেরী মোনাজাতে লাখ লাখ মুসুল্লী অংশগ্রহন করেন। ঢাকার কাকরাইল মসজিদের মুরুব্বি শায়েখ মাওলানা জুবায়ের শাহাব আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন।
আখেরী মোনাজাতের সময় আগত লাখ লাখ মুসুল্লীর আমীন আমীন ধ্বনিতে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আখেরী মোনাজাত পূর্বক বয়ানে জুবায়ের শাহাব বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ ধারণ করে দ্বীনের পথে সকল মুসলমানকে এগিয়ে যেতে হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সারাবিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়তে হবে। তিনি ইজতেমার আগত মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন আল্লাহর দ্বীনের পথে নিজের জীবনকে পরিচালনা করতে হবে।
আখেরী মোনাজাতে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শরীক হন।
প্রথমবার অনুষ্ঠিত ইজতেমার মাঠের জিম্মাদার আবুল খায়ের খান হামিম বলেন, ইজতেমায় আড়াই লাখ মুসুল্লীর বসার ব্যবস্থা করা হলেও তা ছাপিয়ে যাওয়ায় সাউন্ড সিস্টেমের বাইরে কিছু মুসুল্লীর সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকার টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় মুসুল্লীদের দুর্ভোগ কমাতে চলতি বছর বরিশালসহ ৩২টি জেলায় আগাম ইজতেমার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়। গতকাল আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে নগরীর সহ বরিশাল জেলা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলার কয়েক লাখ মুসুল্লী সেখানে নতুন করে সমবেত হন। ধর্মপ্রান নারীরাও পার্শ্ববর্তী বাসা-বাড়িতে অবস্থান নিয়ে আখেরী মোনাজাতে শরিক হন।
প্রথমবারের ইজতেমার মাঠে মুসুল্লীদের সেবা নিশ্চিত করতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন কাজের তদারকি করেন। এছাড়াও মুসুল্লীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেন। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ইজতেমাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলায় গড়ে তোলা হয়।