আজ নাসরিন ট্রাজেডির ১০ম বর্ষ॥নিরাপদ লঞ্চের দাবী পুরন হয়নি

বরিশাল টুডে ॥ আজ ৮ই জুলাই এমভি নাসরিন লঞ্চ দূর্ঘটনার ১০ম বর্ষপুর্তি। ফিটনেস বিহীন ও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে দক্ষিন ভোলার প্রায় ৮ শতাধিক মানুষের সলিল সমাধি ঘটে এ দিনে। এ দিনটি ভোলাবাসীর জন্য এক শোকাবহ দিন। ১৯৭০ এর প্রয়লংকারী ঘূর্নিঝড়ের পর ভোলাবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় সংবাদ  ভয়াবহ নাসরিন লঞ্চ ট্রাজেটির ঘটনা। অনেক বধূ হারিয়েছে তার প্রিয়তম স্বামীকে, অনাথ হয়ে পথে বসতে হয়েছে অনেক শিশুকে। বৃদ্ধ পিতা মাতা মেঘনার অথৈ পানিতে খুঁজে বের করতে পারেনি তার প্রিয় আদরের সন্তানের লাশটি।

২০০৩ সালের ৮ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধা ৬ টায় ঢাকার সদর ঘাট থেকে সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে লালমোহনের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয় এই নাসরিন লঞ্চটি। রাত ১০টায় চাদঁপুরের মেঘনায় নিমজ্জিত হয় লঞ্চটি। আর এর মধ্য দিয়েই ঘটে যায় লঞ্চ দূর্ঘটনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনাটি। এ সময় জীবিত মৃত সব মিলে ৪শ যাত্রীর সন্ধান মিললেও প্রায় ৮শ’ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। তখন দূর্ঘটনার দুইদিন পর থেকে ভোলার মেঘনা রুপান্তরিত হয়েছে লাশের নদীতে। নদী পাড়, মেঘনার চর, ঝোপঝাড়ে আটকে থাকে মানব সন্তানের লাশ। ভয়ংকর দৃশ্য মনে পড়লে এখনো আৎকে উঠে ভোলার মানুষ। এ দিনটির স্মরণে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে।

এতবড় দুর্ঘটনা ঘটলেও ভোলার লালমোহনে সরকারের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী নিরাপদ লঞ্চ আজো দেয়া হয়নি। দুর্ঘটনার পরের সেই ফিটনেস বিহীন লঞ্চগুলো এখনো চলছে ঢাকা-লালমোহন রুটে। এ কারণে ২০০৯ সালের ২৭ নভেম্বর আবারো দুর্ঘটনায় পড়ে লালমোহন রুটের এমভি কোকো-৪ লঞ্চটি। এ দুর্ঘটনায় ৮১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বার বার এ দুর্ঘটনা ঘটলেও সরকারসহ সংশ্লি¬ষ্ট মহলের টনক নড়ছে না। লালমোহন ও চরফ্যাশনের প্রায় ৮ লাখ মানুষ জীবন হাতে নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে রাজধানী সহ সারা দেশে যাতায়াত করে থাকে। মানুষ এসব লঞ্চে বাধ্য হয়ে উঠলেও লঞ্চে উঠে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেনা। কখন আবার নাসরিন, কোকোর মত দুর্ভাগ্য বহন করতে হয় তাদের এ আশংকায়।

উলে¬খ্য, ঢাকা-লালমোহর রুটে বর্তমানে নিম্ন মানের ৫টি লঞ্চ চলাচল করছে। এগুলো হলো কোকো-৫, পাতারহাট-১, ৫, মাহিন রিপাত ও সালাউদ্দিন-১। এ লঞ্চগুলোর ফিটনেস খুবই দুর্বল। এ কারণে লালমোহন ও চরফ্যাশনের যাত্রীরা আতংকিত থাকছেন সবসময়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং বিষাদময় নৌ দুর্ঘটনা এমভি নাসরিন-১ লঞ্চ ট্রাজেডির ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বিকাল ৫টায় লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে নৌ দুর্ঘটনা ঃ মুক্তির উপায় কী?’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।  এ বিষয়ে লালমোহন বাজার ব্যবসায়ি সমিতির আহবায়ক আলহাজ্ব মোস্তফা মিয়া বলেন, আমরা ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকে আমাদের মাননীয় এমপি আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন সাহেবকে নিয়ে লালমোহন বাজারের ব্যবসায়ি ও যাত্রীদের সুবিধার জন্য লঞ্চ মালিকদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদেরকে আসস্ত করেছে আশা করি অতি দ্রুত আমরা এ রুটে মানসম্মত লঞ্চ পাব।