আবাসন সংকটে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্রীরা বসবাস করছে মরচুয়ারী ভবনে

আবাসন সংকটে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ও মরচুয়ারী ভবনে থাকছে। মর্গ ও মৃতদেহ সংরক্ষণ পুরাতন ভবনটির (লাশ কাটা ঘর) পাশের্^ই ৭ বছর পূর্বে নির্মিত ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমের ভবনে ভয়কে জয়কে থাকছে প্রায় ২৫ ছাত্রী। এ কলেজে এমবিবিএস ও ডেন্টাল অনুষদ মিলিয়ে প্রায় ১৩শ’ শিক্ষার্থীর অনুকুলে আবাসন রয়েছে ৮৬৮ জনের। এছাড়াও আবাসিক ভবনগুলোর মধ্যে ছাত্রদের ৩টি ও ছাত্রীদের ৩টি হলের ভবনগুলো অর্ধশত বছর পার হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এরমধ্যে ছাত্রীদের একটি ও ছাত্রদরের একটি হল পরিত্যক্ত ঘোষনার পরও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ছাত্র-ছাত্রীরা। গত কয়েক বছর ধরে আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম ও মরদেহ সংরক্ষণের জন্য দ্বোতলা বিশিষ্ট ভবনে থাকছে ছাত্রীরা। আধুনিক এ মরচুয়ারি ভবনটি উদ্বোধনের পর ৭বছর পার করলেও কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম ও মরদেহ হিমাগার করার কোনো কার্যক্রম এখানে পরিচালিত হয়নি। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম ও মরদেহ সংরক্ষণের জন্য দ্বোতলা বিশিষ্ট একাডেমিক কার্যক্রম ও মরদেহ সংরক্ষন মরচুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হলেও পাশর্^বর্তী পুরনো ভবনেই হচ্ছে ময়নাতদন্ত। আবাসন সংকটে ভয়কে জয় করে এ মরচুয়ারি ভবনে থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, ডেন্টাল কোর্সে ভর্তি হওয়ায় আবাসনে তাদের থাকায় চরম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। বাধ্য হয়ে লাশ কাটা মর্গের পাশর্^বর্তী এ ভবনে থাকতে হচ্ছে তাদের। ছাত্রীরা জানান, নির্জন এ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এছাড়াও পাশেই লাশ কাটা ভবনে দিনের বেলায়ও লাশ কাটাছেঁড়া করা হয়। কিন্তু তাদের আবাসনে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় থাকতে থাকতে এখন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। নতুন কিংবা পুরাতন হোস্টেল যেখানেই ডেন্টাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা হোক না কেন সর্বনি¤œ কক্ষটা তাদের জন্য বরাদ্দ। এমবিবিএস শিক্ষার্থীরা ভালো মানের ব্যবস্থাপনায় থাকবে এবং ডেন্টাল কোর্সের শিক্ষার্থীরা নি¤œ মানের ব্যবস্থাপনায় থাকবে এটাই নিয়ম বলে জানান মরচুয়ারি ভবনে থাকা প্রায় ২৫ ছাত্রী। ডেন্টাল কোর্সের ছাত্রীরা জানান, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার আসলে তাদের প্রাকটিক্যাল নম্বর কমিয়ে দেয়া সহ নানান ভোগান্তি পেতে হবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পাশাপাশি দু’টি ভবনের একতলা ভবনটিতে বর্তমানে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে এবং অপরটিতে ছাত্রীরা বসবাস করছে। মরচুয়ারি ক্যাম্পাসে প্রবেশে একটি গেট থাকলেও তাদের নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্জন এলাকা ও চারদিকে ঝোপ জঙ্গল থাকায় সেখানে দিনের বেলাতেই কেউ দাঁড়াতেও ভয় করবে। সেখানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক নাইটগার্ড রফিক জানান, তিনি রাত্রিকালিন ডিউটিতে থাকেন তবে দিনের বেলাতে কেউ নেই।
জানা গেছে, ২০১১-১২ সেশনে কলেজে বিডিএস বা ডেন্টাল অনুষদের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ৫০টি আসনের অনুকুলে ভর্তি হতে শুরু করে। একই বছর থেকে এমবিবিএস কোর্সেও ছাত্রীদের ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে কয়েকটি সেশনে এসব শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ায় আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করলে ডেন্টাল অনুষদের ছাত্রীরা সেখানে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে বিদেশী ৩৩ জন সহ ১০৩৯ জন শিক্ষার্থী এমবিবিএস ও চলতি সেশনের ৫৫ আসন সহ ২৩৩ জন ডেন্টাল কোর্সের শিক্ষার্থীর অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ক্লার্কের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১নং ছাত্রী হোস্টেলটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হরেও সেখানে ৩২০ জন ছাত্রী বসবাস করছে। এছাড়াও ২নং ছাত্র হোস্টেলটির ৩য় তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে গণপূর্তের হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তুজাম্মেল জানান।
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডাঃ মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের আধুনিক এ একাডেমিক মরচুয়ারি ভবনটি ব্যবহারে লিখিত ভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। কেননা ফরেনসিক বিভাগে অধ্যায়নরত ২টি ব্যাচে ৪শ’ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আধুনিক মানের ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় ময়নাতদন্তে অসুবিধা হচ্ছে। বর্তমানে পুরাতন যে ভবনটিতে ময়নাতদন্ত হচ্ছে সেটা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় পলেস্তারা খুলে পড়ছে। ফরেনসিক কার্যক্রম করতে দীর্ঘ সময় থাকতে হয় কিন্তু পুরাতন ভবনটিতে কাজের কোনো পরিবেশ নেই। তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতনদের অবহিত করেছেন বলে জানান।
আবাসন সংকট প্রকটের কথা স্বীকার করে কলেজ অধ্যক্ষ ডাঃ সৈয়দ মাকসুমুল হক জানান, খুব শীঘ্রই একটি ৮ তলা ভবনের ছাত্রী হোস্টেলের কাজ সম্পন্ন হবে। সেটি বুঝে পেলে কিছুটা হলেও ছাত্রীদের আবাসন বাড়বে। তবে ছাত্র-ছাত্রী উভয় হোস্টেলের প্রয়োজনীয়তার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।
তথ্য সূত্র ঃ দৈনিক ইত্তেফাক