ইসলামী জনতার সেন্টিমেন্ট সরকার বুঝতে ব্যর্থ হলে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে-মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতী সৈয়দ মোঃ ফয়জুল করীম বলেছেন, ইসলামী সেন্টিমেন্টকে সরকার বুঝতে ভুল করলে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আল্লামা আহমাদ শফী দা.বা. ও হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে ফেসবুক ও ওয়েব সাইডসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিভিন্নজন বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য, বিবৃতি ও লেখালেখি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে। ইসলাম ও ইসলামী অনুশাসন যাদের সহ্য হয় না তারাই কেবল এধরনের অশালীন মন্তব্য করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, নাস্তিক ব্লগার ও মুরতাদদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ¯পষ্ট করতে না পারলে এবং ইসলামী জনতার প্রাণের দাবি নাস্তিকদের বিরুদ্ধে শাস্তির আইন প্রণয়ন না করলে আগামীতে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ২৯ মার্চের জাতীয় মহাসমাবেশ ও ৬ এপ্রিলের লংমার্চ পরবর্তী মহাসমাবেশ প্রমাণ করেছে দেশের ঈমানদার জনতা নাস্তিক-মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাশ করা ছাড়া ঘরে ফিরবে না।

গত ২৯ মার্চের জাতীয় মহাসমাবেশে  ঘোষিত কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল রবিবার বিকাল ৩টায় পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মজলিশে আমেলার এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা ও নগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, প্রিন্সিপাল মাওলানা মকবুল হোসাইন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, এ্যাডভোকেট শেখ লুৎফর রহমান, মো: বরকত উল্লাহ লতিফ প্রমূখ।

মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডের নামে তার ওপর জুলুম-নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এধরণের ঘটনা সংবাদপত্রের ওপর চরম হস্তক্ষেপ এবং সংবাদপত্রের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার শামিল।
তিনি বলেন, ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে দেশ স্বাধীনের ৪২ বছরে বারবার নেতার পরিবর্তন ঘটলেও নীতির পরিবর্তন হয়নি ফলে জাতীয় জীবনে কল্যাণ ও শান্তি ফিরে আসে নাই। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তি ফিরে আসবে।
আগামী ১৯-২০ এপ্রিল যশোর-কুয়াকাটা রোড মার্চ, ২৫ এপ্রিল ৫দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও এবং আগামী ৯-১১ মে মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চ, ১৬-১৮ মে ঢাকা-ভুরঙ্গামারী এবং ৭-৮ জুন ঢাকা-সিলেট রোডমার্চ সফলে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। তিনি এ সকল কর্মসুচী সফলে দেশের সর্বস্তরের ঈমানদার জনতার প্রতি আহ্বান জানান।  প্রেস বিজ্ঞপ্তি