এটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কেমিকেলের অগ্নিকাণ্ড নয়,: শিল্পমন্ত্রী

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি সংবাদিকদের এ কথা জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘চকবাজার এলাকার রাজ্জাক ভবনে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে সংঘটিত হয়েছে। তারপরও এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন এবং অগ্নি দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ দেওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে। এর আলোকে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কেমিকেলের কোনো মজুদ ছিল না। এখানে কেমিকেলের কোনো গোডাউন নেই। সিলিন্ডার থেকে এটা হয়েছে। আমি সরেজমিনে দেখে এসেছি। এটি আলাদা ঘটনা। যেখানে ঘটেছে সেটা ছিল একটি রেস্টুরেন্ট। এটা হচ্ছে সিলিন্ডার ব্লাস্ট। ওই এলাকায় গ্যাস স্বল্পতা ছিল। হোটেলে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করতো। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা কেমিকেল এলাকা নয়। এখান থেকে সারাদেশের পাইকারী পণ্য বিক্রি হয়। ওখানে কসমেটিকস আছে, স্প্রে মেশিন আছে– এটাই দেখলাম’।

তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক ঘটনা এখানে অনেকগুলো সিলিন্ডার একসঙ্গে ছিল। এগুলো ব্লাস্ট হয়েছে। একটার ওপর আরেকটা ছিল। আমি নিজেই দেখে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এটি মোকাবেলা করেছি’।

এর আগে বুধবার রাত ১০টার পর রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আগুন ভয়াবহ আকারে আশপাশের ৫টি বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট রাত ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সরকারি হিসাব মতে আগুনে পুড়ে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন ৪১ জন। এর মধ্যে ৩২ জন ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকি ৯ জন ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।