করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বরিশালের দোকান-কর্মচারীরা ॥ কর্মচারীরা ছাটাই আতংকে

বরিশালের প্রায় সাড়ে তিন হাজার দোকানের ১০ হাজার দোকান কর্মচারী আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গত মার্চের শেষে লকডাউন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দোকান মালিকদের ব্যবসায়ীক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারনে কর্মচারীদের এপিল মাসে ১০ শতাংশ বেতন এবং মে মাসে অর্ধেক বেতন প্রধান করা হয়। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের আর্থিক সংকটের মধ্যে পরতে হচ্ছে। বেশির ভাগ দোকান কর্মচারীরা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। জুন মাস শেষে অনেককেই আবার কাজে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে। বরিশাল মহানগর দোকান-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন দত্ত জানিয়েছেন সারাদিন দোকানে কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পর দোকান মালিকদের মোবাইল থেকে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয় আর কাজে আসতে হবে না। তিনি জানান, কোনো প্রকার নিয়ম-নীতি না মেনেই কর্মচারীদের ঢালাও ভাবে ছাটাই করছে দোকান মালিকরা। তিনি বলেন বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন অবিলম্বে দোকান কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগী ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে বরিশালের সকল দোকান কর্মচারী আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। এছাড়াও চাকুরীচ্যুত কর্মচারীদের ন্যায্য টারমিনেশন বেনিফিট সহ বকেয়া পাওনা টাকা পাওয়ার বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
একাধিক কর্মচারীরা জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার ঘোষিত নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না বরিশালের দোকান ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই অধিক মুনাফা লাভের আশায় তাদেরকে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে। কোনো প্রকার স্বাস্থ্য উপকরণ দোকানে রাখা হচ্ছে না এবং ছোট্ট দোকানে বেশি কাস্টমার ঢুকিয়ে তাদেরকে বাধ্য করা হয় বিক্রি করতে। কর্মচারীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও মালিকরা সুরক্ষিত জায়গায় বসে তা পরিচালনা করছে বলে কর্মচারীরা জানান। বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন সূত্র জানা গেছে, সম্প্রতি সরকার ঘোষিত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নিয়ম করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও কর্মচারীদের বেলায় এ নিয়ম থাকছে না। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কাজে যোগদান করে বিকেল ৪টার পরিবর্তে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত একটানা না খেয়ে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এত কিছুর পরও ছাটাই করা হচ্ছে কর্মচারীদের।
সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটগুলোর অধিকাংশ দোকানই খোলা রাখতে দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ খাবারের দোকান বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। তবে লকডাউন উঠে যাওয়ায় চলতি মাস জুড়েই সীমিত আকারে সব ধরনের ব্যবসা-বানিজ্য চলছে বরিশালে।
বরিশাল বৃহত্তর চকবাজার মালিক সমিতির সভাপতি শেখ তোবারক হোসেন জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে অনেক দোকান মালিক বিপাকে পড়েছে। এসময় তিনি দাবী করেন অনেক দোকানের কর্মচারীদের বেতন আগের ন্যায় দিয়ে দিয়েছেন মালিকরা। একাধিক দোকান মালিক জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দোকানের বিদ্যুৎ বিল দেয়ায়ই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরও আমরা আমাদের কর্মচারীদের বেতন ঠিক ভাবে পরিশোধ করে দিচ্ছি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।
বরিশাল কলকারখানা অধিদপ্তরের উপ-মহা পরিদর্শক হিমন কুমার সাহা ইত্তেফাককে জানান, দোকান কর্মচারীদের যে সকল অভিযোগ তারা লিখিত ভাবে পাচ্ছেন তার অনুকুলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। কোনো কর্মচারী হয়রানীর শিকার হলে তিনি কলকারনা অধিদপ্তর বরার আবেদন করার আহবান জানান।