চন্দ্র কারিগরের চন্দ্র¯œান

মনিরুজ্জামান,ইকোপার্ক থেকে ফিরে-

২২ ভাদ্র। বুধবার রাত ৮টা।পূর্ণ রূপ-যৌবনে ভরা ভাদ্রের চন্দ্র।যাকে আমরা মধু পূর্নিমা ও বলি।যেন আপন মহিমায় রূপের পরসা সাজিয়ে তৈরী করছে বিকিকিনির হাট।ভবেব এই চন্দ্র বাজারের নিমন্ত্রন অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা বিধাতা কাউছে দিয়েছে কি?এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে ব্যস্ত বোরহানউদ্দিনের চন্দ্রের কারিগর ও তার টিম।এখন ও চন্দ্র তার সমস্ত পরসা সাজাতে পারেনি।বিলিয়েছে মৃদু মৃদু আলো।তাই বলে থেমে থাকার সুযোগ নেই।চন্দ্র কারিগর(ইউএনও) ও তার টিম তাদের সমস্ত আয়োজন করে ফেলছে ইতিমধ্যেই।চন্দ্র কারিগর ও তার দল, অনুজ শিমুলের ট্রলার যোগে ভ্রমনে বের হলো।মনে হলো কলন্বাস’র আমেরিকা মহাদেশ আবিস্কারের মতো কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।হঠাৎ মনে পড়ল নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর সেই বিখ্যাত গানটি-“ও কারিগর দয়ার সাগর ওগো দয়াময় চান্দ্রি পরশ রাইতে যেন আমার মরণ হয়।”ট্রলারে চন্দ্র কারিগর আর সাইফুল বিডিআর এর কৌতুক আমাদের সকলের পেটকে খালি করতে সহায়তা করল।রাত ৯টায়।পৌছে গেলাম চন্দ্র কারিগরের মেধা,মন আর মননশীলতা ও দিন-রাত পরিশ্রমের মাধ্যমে সৃষ্টি নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক আবাসভূমি তেতুলিয়া রিভার ইকোপার্কে।চারদিকে সুনশান নিরবতা।মাঝে মাঝে আলো-আধারির খেলা খেলছে বিধাতার সৃষ্টি আরেক কারিগর জোনাকি পোকা।ইকো পার্কের রেষ্ট হাউসের পাশে অনুজ শিমুলের নেতৃত্বে বাবুর্চি খাসির বারবিকিউ তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।অন্যদিকে বটতলায় বসল শিল্পকলার সাধারন সম্পাদক রাজিব রতন দে’র নেতৃত্বে এবং ওই সংগঠনের শিল্পিদের অংশগ্রহণে শাহ আব্দুল করিমের লেখা গান সহ বিভিন্ন আইটেম গান।উপস্থাপনায় রয়েছে আনোয়ার ।সুরের ধারায় মাতোয়ারা হয়ে উঠল প্রিয় ইকোপার্ক।থেমে থাকেনি প্রবাল দা, বিশ্বজিৎ,নান্নু স্যার সহ,পার্থ,রিপন ও বন্ধু পিন্টু।এক ফাকে সকলকে ফাকি দিয়ে খাল আর নদীর সংযোগস্তলের পাশে চেয়ার নিয়ে বসলাম।বহমান জোয়ার খালের দ’ুপাশ কে প্লাবিত করছে।উপরে তাকাতেই সেই পূর্নিমা চাদ।সুকান্ত পৃথিবীতে থাকলে ওই দৃশ্য দেখে হয়তবা তার কবিতার লাইনটি পরিবর্তন করতেন।্ চাদ যখন মাথার উপর ঠিক তখনই কালাম বর্দ্দার’র সহযোগীতায় নৌকা নিয়ে মাঝের চরে কয়েকজন ¯œানের উদ্দেশ্যে চলে গেল।শুরু হলো ¯œানের পর্ব।সৃষ্টি সুখের আনন্দ আর উল্লাসে নেচে উঠে মাঝের চরের নদীর পানি।শিমুল,সামছু, পলাশ আর সাইফুল বিডিআরের রান্না তখন শেষ পর্যায়ে।বটতলায় বসে পরিবেশন করার পর আবার ট্রলার যোগে ফিরে আসলাম আপন নীড়ে।কিন্ত অনেকেরই মনটা পড়ে রইল প্রিয় ইকোপার্কে।ধন্যবাদ ইকোপার্ক।ধন্যবাদ নির্মাণ পরিকল্পনাবিদ দ্বয়কে।জানি না পাব কিনা এ রকম উদার মনের কোন কারিগরকে ।