দিনটা হাসি দিয়ে শুরু হোক

শাহীন হাফিজ ॥ নেতিবাচক জিনিসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকার জন্য, এই পৃথিবীতে তোমার নিজের ও চারপাশের মানুষের জীবনে সুখ বয়ে আনার জন্য কিছু পরামর্শ  :  প্রথমত, প্রতিটি দিন হাসি দিয়ে শুরু করা, জোর করে হলেও হাসতে চেষ্টা করা— তাহলে দেখা যাবে একসময় সত্যিই অনেক ঝামেলার মধ্যেও আমরা খুশি থাকতে শিখে যাবো। ‘আমাকে করতে হবে’ এমনটা না বলে বলি, ‘আমি করব’, আগ্রহ আর উদ্যোগকে নিজের অন্তরের ভেতর থেকে আনতে চেষ্টা করি। প্রতিদিন যাদের সঙ্গে দেখা হয়, সবার সঙ্গে হাসিখুশি থাকো, শুধু ঠোঁটে নয়, চোখ, কান, মুখ, সারা শরীরে যেন সেই হাসির ছোঁয়া লেগে থাকে। নিজেকে ইতিবাচক চিন্তা আর শক্তির আধারে পরিণত করি। বিশ্বাস করা উচিৎ, নদীর ওপারের ঘাস নয়, বরং আমরা যে পারে আছি, সেদিকের ঘাসের রংই বেশি সবুজ। এই বিশ্বাসটুকুই আমাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।
আমরা যখন খুব চাপের মধ্যে থাকবো, সমস্যার জালে জড়িয়ে পড়বো, তখন মনে করি, এটা একটা গভীর কৌশলের খেলা। এখানে সেই জিতবে, যে নিজের চিন্তাকে সঠিকভাবে কেন্দ্রীভূত করে যেখানে দরকার, ঠিক সেখানেই মনোযোগ দিতে পারে। সংকটের মুহূর্তে আবেগ কিংবা অহংবোধ যাতে যুক্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলতে না পারে। যখন আমাদের কাছের মানুষের সঙ্গে ঝগড়া বেধে গেছে, নিজের আত্মমর্যাদাকে ক্ষণিকের জন্য বিসর্জন দিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্কটাকেই বড় করে দেখা উচিৎ। যখন সংঘাত চরমে পৌঁছে, তখন ভেতরের গর্বিত, আত্মাভিমানী সত্তা আমাদের যা করতে প্ররোচনা দেয়, ঠিক তার উল্টো কাজটিই করলেই ভাল হবে। যদি পারা যায়, নিজের মনকে একটু সংযত করে, ঝগড়ারত বন্ধুটিকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে, তাকে বুঝিয়ে দেই যে, আমাদের কাছে সে কতটা মূল্যবান, কতটা প্রিয়। যখন কোনো বৈষয়িক ব্যাপারে লাভ কিংবা ক্ষতি হয়, মনে করি, এসবই ক্ষণস্থায়ী। আমাদের সুস্বাস্থ্য কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্কের তুলনায় এসব কিছুই নয়।
যখন কোনো কিছু অসহ্য লাগবে, রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি। একবার ভাবতে চেষ্টা করি, ওই তারাগুলো কতদূরে, কত অসীম এই মহাকাশ, কতকাল আগে সৃষ্টি হয়েছিল এই মহাবিশ্ব! অসীম শূন্যতার দিকে তাকিয়ে একবার ভেবে দেখি আমাদের মতো আরও কত মানুষ, জানা-অজানা কত প্রাণী ঠিক একই ভাবে বিস্ময় নিয়ে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, হয়তো এখনো আছে। কোনো নির্জন স্থানে চলে যাই, নিজের নাম, চিন্তা, ব্যস্ততা, দায়িত্বের বোঝা সব ভুলে গিয়ে নিজের ভেতরের সত্তার দিকে একবার তাকায়ি দেখি, একবার ভেবে দেখি, এই অনন্ত মহাবিশ্বের শূন্যতায় কোথায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি, এত যে দুশ্চিন্তা তারই বা মূল্য কতটুকু!!!!!!
মনের ভেতর থেকে যখন সুখী হতে পারব, শান্তি পেতে পারব, তখন বুঝবো সেটাই প্রকৃত সাফল্য। এসব কখনো অর্থ, বিত্ত, সামাজিক মর্যাদা এমনকি প্রশংসা থেকেও আসে না।
একটা কথা জেনে রাখি, জীবনসঙ্গী হিসেবে কাকে বেছে নিচ্ছি, তা আমাদের ক্যারিয়ারের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় যে মনটাকে খুশিতে ভরিয়ে দিতে পারে, যার সঙ্গে মূল্যবোধটা মিলে যায়, যে সম্মান করে, বাইরের সবকিছু, সাফল্য, ব্যর্থতা—সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে শুধু মানুষটি আমি বলেই আমাকে ভালোবাসে; এই রকম একটা মানুষ যদি পাশে থাকে , শক্ত করে হাত টা ধরে থাকে তাহলে পৃথিবীর কোনো কিছুই আর অসুখী করতে পারবে না।
কখনো কোনো কিছুতে উৎসাহ পেলে, সোজা কাজে লেগে যাওয়া উচিৎ। কাউকে উল্টোপাল্টা কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নিজের মতো কাজ শুরু করে ফেলি, অন্তত একবার চেষ্টা করে দেখি। অলসতা, অহংকার অথবা ভয়—এসব কিছু যাতে কখনোই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা থেকে দমিয়ে রাখতে না পারে। নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা, কিন্তু সেই সঙ্গে নিজের পছন্দের কাজগুলো করতে ভুলে যাওয়াটা উচিৎ না। শুধু একটি পদমর্যাদা, বা বিশাল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মালিকানাই সবকিছু নয়।নিজের শখের জিনিসগুলোকে জীবনে জায়গা করে দিলে সেগুলো আমাদের আরও সামনের দিকে নিয়ে যাবে।