পাখি আমার হারানো পাখি

রেশমা ইয়াসমিন ।। দিন বদলের ধারায়  আমাদের দেশ থেকে বিশেষ করে পল্লী অঞ্চল থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। ছোটবেলায় পাখির কলরবে আমাদের
ঘুম ভাংলেও এখন আর আগের মত পাখির ডাক শোনা যায় না। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে পাখির আবাসস্থল ধ্বংস ও ফসলের ক্ষেতে যথেচ্ছ  কীটনাশক প্রয়োগের ফলে এসব পাখি আজ বিলুপ্ত প্রায়। বিশেষ করে দোয়েল, ঘুঘু,বক,চিল, বাওয়াই, টুনটুনি, কাঠঠোকরা,ফাসকে, কোকিল, ডাহুক,মাছরাঙ্গা, টাইটেরা, গোমড়া, গাঙচিল, বাবুই ও পেঁচাসহ আরো অনেক পাখিকে ইদানিং কালে তেমন একটা দেখা যায় না। শোনা যায় না এসব পাখির মধুর ডাক। অতীতে রাতের প্রতিটি প্রহরে কোন না কোন পাখির ডাক শোনা যেত ।

কিন্তু এখন প্রহর জানার আর কোন উপায় নেই। প্রহর কি এই প্রজন্ম তাই জানে না। এমনকি বর্তমান প্রজন্ম এই সব  পাখিও তেমন একটা চেনে না। এইসব পাখির ডাকও শুনেছে কিনা তাও সন্দেহ। ফলে শিশু-কিশোরদের কাছে এইসব পাখি দিনে দিনে  হয়ে যাচ্ছে  ইতিহাস। এমনকি আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল, সেটিও আজ বই অথবা ছবিতে দেখে পরিচিত হয় শিশু কিশোররা। এই প্রজন্ম  কদাচিৎ  হয়তো দেখেছে মুক্ত আকাশে ডানা মেলা পাখি। জানেই না কোন ডাক কোন পাখির। আমারা ফসলের জমিতে যথেচ্ছ পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করি ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় মারার জন্য। মরা, বিষাক্ত এইসব পোকা-মাকড় খেয়ে পাখিগুলি মরে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এছাড়াও আছে আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য তথা ইকো ব্যালেন্স সম্পর্কিত অজ্ঞতা। ফলে আমরা নির্বিকারভাবে এই সব পাখি কারণে অকারনে নিধন করি,নষ্ট করি এদের বাসা ও ডিম। আর এই ভাবেই দেশীয় পাখি কালের বির্বতনে হারিয়ে যাচ্ছে। সময় এসেছে ভেবে দেখার আমরা কি কেবল বিদেশী পরিযায়ী পাখি নিয়েই শুধু গলা ফাটাবো নাকি আমাদের দেশীয় পাখি নিয়েও ভাববো? এই দায়িত্ব কিন্তু আমার আপনার ,আমাদের সকলের।