পানি শূন্য খর¯্রােতা কালিজিরা নদী

এক সময়ের কালিজিরা নদীতে চলাচল করতো ঢাকাগামী লঞ্চ ও কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযান। জেলেরা জাল ফেলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করতো। সেই খরো¯্রােতা কালিজিরা নদী এখন প্রায় মৃত। যে নদীতে পাকা মাঝিরাও ¯্রােতের তোড়ে হাল ধরে ঠিক রাখতে পারতোনা এখন সোই নদীতে পানির অভাবে নৌকা চলাতে পারছে না। আর মাছ ধরা তো দূরের কথা এখন নদীটি হারিয়েছে তার নব্যতা ও সৈন্দর্য্য।
বরিশালের উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের বিস্তির্ন এলাকার বুক চিড়ে ঝালকাঠী হয়ে সাগর মোহনায় মিলিত কালিজিরা নদীটি দ্রুত খনন করা না হলে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। নদীর নাব্যতা না থাকায় পানি অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে হাজার হাজার কৃষকের ইরি বোরো ধানের চাষ।
উজিরপুরের গগন এলাকার ৯০ বছর বয়সী রহমত আলী কালিজিরা নদীর যৌবনের কথা বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। তিনি বলেন, কালিজিরা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পরতো। ঢাকা টু ঝালকাঠী রুটে এ নদী দিয়ে যত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করতে। আর এখন পানি শূন্য কালিজিরা নদীর হাহাকার দেখেছেন তিনি।
তার মত আরও অনেকেই নদীটি দ্রুত খনন করে ইতিহাসের সাক্ষি কালিজিরা নদীটি কে বাঁচিয়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন। নদীটি খনন করা হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। বার্তমানে শুধু বর্ষা মৌসুমে নদীটি দিয়ে কোন মতে নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার চলাচল করে। আর বর্ষা মৌসুম শেষ হলে নদীটি পানি শূন্য হয়ে যায়।
নদীটি খনন হলে ঝালকাঠী-উজিরপুর সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়িসহ কৃষকের জন্য আর্শিবাদ হয়ে দাড়াবে কালিজিরা এমন অভিমত জন প্রতিনিধিদের। গুঠিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নদীটি খনন করা হলে এঅঞ্চলের সব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্ল¬ব ঘটাবে কলিজিরা নদী।
উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু জানান, এক সময়ের কালিজিরা নদীটি আজ যৌবন হারা। এই নদীটি খনন করা হলে সব সময় নৌযান চলাচলের পাশাপাশি হাজারো কৃষকরা ইরি, বোরো মৌসুমে চাষাবাদের পানি ব্যবহার করতে পারতো। অন্য দিকে নিশ্চত মৃত্যুর হাত থেকে বেচে যেত একটি নদী।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছেন অর্থ বরাদ্দ না থাকা ও প্রজেক্ট না থাকার কারনে আপাতত কালিজিরা নদীটি খননকরার তাদের কোন পরিকল্পনা নাই। ###