বরিশালে কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ

মুশফিক সৌরভ ॥ বরিশাল নগরীতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পিতা। এ ঘটনায় প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে কাউনিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় এক যুবককে আটক করে। শুক্রবার রাতে বরিশাল নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড পলাশপুরের ৮ নং গুচ্ছগ্রামের বসত ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। নিহত কিশোরীর নাম সাথী (১৮)। সে ৮ নং গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ও মৎস ব্যবসায়ী নাছির খানের মেয়ে।

সাথী স্থানীয় এক স্কুল থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করে কারিগড়ি প্রশিক্ষন কেন্দ্র থেকে সেলাই কাজ এর উপর দক্ষতা অর্জন করে। এরপর থেকে সে সেলাইয়ের কাজ এবং সাংসারিক কাজে পরিবকারকে সহযোগীতা করে আসছিল।  নিহতের পিতা মেয়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত বলে দাবী করে জানায়, ৬ মাস পূর্বে স্থানীয় বাসিন্দা অনু’র মা তার নিজস্ব ৫ শতাংশ জমি অপর বাসিন্দা বাচ্চু কর্তৃক জবর দখলের অভিযোগ করেন আমার (নিহতের পিতা নাসির খান) কাছে। নাসির খান এ বিষয় জানতে পেরে বাচ্চুকে জমি ছেরে দেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু বাচ্চু এ বিষয়ে কর্ণপাত না করলে নাছির ও বাচ্চুর মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ও ঘটে। এরপর থেকে বাচ্চু প্রায়ই নাছির খান ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

সর্বশেষ বাচ্চু নাসিরের রগ কেটে দেয়ার ও হুমকি দেয় বলে জানান তিনি। আর এসব কারনে বাচ্চু কর্তৃক পরিকল্পিত ভাবে লোক ভাড়া করে সাথীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান নাসির। তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিলনা। এসময় সাথী’র মা রুমা খান সাথী ও তার ছোট ভাই মাহিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে রেখে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। রুমা খান বাড়িতে ফিরে সাথীকে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষনিক সাথীকে উদ্ধার করে বরিশাল-শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক কিশোরী সাথীকে মৃত বলে ঘোষনা দেয়।

সাথীর বাবা আরো জানান, এ ঘটনার আগে তার ঘরের সামনে রাসেল ও পলাশ নামে দুই যুবককে ঘুরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর। সাথীর বড় ভাই বলেন, ঘটনার কিছু আগে স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিকের ছেলে রাসেলকে তাদের ঘরের সামনে বসে থাকতে দেখেন, তবে সে সময় তারা কিছু অনুমান করতে পারেনি। এসব ঘটনার পর পরিবারের সকলে নিশ্চিত হন রাসেল ও পলাশ সাথীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন রশি দিয়ে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দেয় এবং পরিবারের দাবী পূর্ব শত্রতার জের ধরে বাচ্চুই টাকা দিয়ে রাসেল ও পলাশকে ভাড়া করে সাথীকে হত্যা করায়। এদিকে স্থানীয় সূত্র দাবী করছে, সাথীকে বখাটে সন্ত্রাসীরা ধর্ষন করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

তবে এ বিষয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্বিত হতে পারছেনা পুলিশ প্রশাসন। শনিবার হাসপাতালের লাশ রাখা কক্ষে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরীর পর কোতোয়লী থানার এস.আই আসাদ জানান, প্রাথমিক ভাবে সুরতহাল রিপোর্টে ধর্ষনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে গলার কাছে একটি দাগ রয়েছে। সুরতহাল শেষে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানা পুলিশ এ ঘটনায় পলাশকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে। এবং এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু পলাতক রয়েছে।