বরিশালে খালের মধ্যে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মান

জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ও চরগোপালপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাসকাটা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় ভূতের খালে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মান করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পরবে নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম।
পাশাপাশি অভ্যন্তরীন রুটের নৌ-যান চলাচল হুমকির মুখে পরবে। এতে করে ভোগান্তি বাড়বে এই রুট দিয়ে চলাচালকারী নৌযান যাত্রীদের। স্থানীয়রা জানান, সরকার যখনই সারাদেশে খাল ও নদী অবৈধ দখলমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছে ঠিক তখনই মেহেন্দিগঞ্জে খাল দখলে মেতে উঠেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধের কথা বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রামবাসীর কাছ থেকে গাছ ও বাঁশ সংগ্রহ করে অপরিকল্পিতভাবে খালে বাঁধ নির্মানের কাজ শুরু করা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে ওই বাঁধের মধ্যেই প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় তিনশ’ ফুট প্রস্থের এই খালে গাছ, বাঁশসহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে প্রায় শতাধিক শ্রমিক নিয়ে গত চারদিন ধরে বাঁধ নির্মান করা হচ্ছে। কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত চরগোপালপুর ইউনিয়নের সদস্য ইউসুফ সরদার বলেন, আলিমবাদ এবং চরগোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা নদী ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় খালে বাঁধ দিচ্ছি।
আলিমাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভূতের খালে বাঁধ নির্মানাধীন এলাকাটি আমার ইউনিয়নের অর্ন্তগত ১নং ওয়ার্ড। কিন্তু খালে বাঁধ নির্মানের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। অভ্যন্তরীন রুটের লঞ্চ মালিকরা বলেন, এই খালে বাঁধ নির্মানের ফলে হুমকির মুখে পরবে নৌযান চলাচল। ভোগান্তি বাড়বে এই রুট দিয়ে চলাচালকারী নৌযান যাত্রীদের।
এ ব্যাপারে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, খালে বাঁধ নির্মানের বিষয়টি আমাকে কেউ বলেননি। এছাড়া নদী বা খালে বাঁধ দিতে হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।