বরিশালে প্রেমে প্রত্যাক্ষিত হয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

খান রুবেল ॥ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দীর্ঘদিন মেলামেশা করার পরে প্রেম অস্বীকার করায় ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক ছাত্রি। সোমবার নগরীর ইনষ্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজী (আই.এইচ.টি) ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সহপাঠিদের বাধার ফলে আত্মহত্যায় ব্যার্থ হয় ইসি বিশ্বাস নামের ছাত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আই.এইচ.টি’র রেডিওলজী অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ইসি বিশ্বাস। তার বাড়ি পিরোজপুর দুর্গাপুরের কালাখালী গ্রামে। একই জেলার নগরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা টিটল এদবর। সেও বরিশাল আই.এইচ.টি’র ল্যাবরেটরি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে ইসি ও টিটল এদবর এর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।

ইসি জানায়, আই.এইচ.টিতে তারা ভর্তি হবার পূর্বে গ্রামে থাকা কালেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে এখানে অধ্যায়ন রত অবস্থায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টিটল তার সাথে যৌন মেলা মেশাও করে।

কিন্তু তাদের মধ্যে সম্পর্ক চলাকালে টিটল অপর একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে। এর ফলে সে ইসি বিশ্বাসকে ভুলে যাবার চেষ্টা করে। বেশ কয়েকদিন ধরেই এ নিয়ে তাদের মধ্যে দন্দ চলে আসছে।

এর প্রেক্ষিতে সোমবার ক্যাম্পাসের মধ্যে ইসি প্রকাশ্যে তার প্রেমিক টিটলকে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু তখনও সে তাকে ফিরিয়ে দেয়। এতে ইসি প্রেমিকের সাথে অভিমান করে ক্যাম্পাসের চার তলা একাডেমিক ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তার প্রেমিক টিটল এবং অন্যান্য সহপাঠিরা গিয়ে বাধা দিলে আত্মহত্যা চেষ্টায় ব্যার্থ হয় সে।

পরে প্রেমিকা তাকে বিয়ে করতে বললে প্রেমিক টিটল তাকে ফিরিয়ে দেয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে সাধারন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে প্রেমিক নামের প্রতারককে মারধরের চেষ্টা চালায়। তখন শিক্ষকরা টিটলকে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে দেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, টিটল ও ইসি ক্যাম্পাসের মধ্যে অবাধ মেলামেশা করত। তাদের এ বিষয়ে নিষেধ করা হলে তারা দু’জন স্বামী-স্ত্রী বলে দাবী করত।

এ ব্যাপারে আই.এইচ.টি’র অধ্যক্ষের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এর পূর্বেও একই ঘটনার জের ধরে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যর চেষ্টা চালায় ছাত্রী ইসি। সেই একই ঘটনায় পূনরাবৃত্তি ঘটেছে। তার পরবর্তিতে যাতে এ ধরনের কোন ঘটনা না ঘটে সে জন্য দুই পক্ষের বাবা-মাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে। পারিবারিক ভাবে সমঝোতা না হলে তারা একাডেমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন।