বরিশালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবিতে মানবন্ধন

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে বরিশালের গৌরনদীতে প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ সকালে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবিতে মানবন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী। এসময় বক্তারা আগামী ৩০জুনের মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত না হলে লাগাতার অনশনের হুমকি দেন।
সকাল ১০টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, বেসরকারী সাহায্য সংস্থা টিপিডিও’র ও আইডব্লিউএফের যৌথ উদ্যোগে ঢাকাÑবরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সাউদেরখাল পাড়ে ঘন্ট্যাব্যাপী  মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হাসেমের পুত্র সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ মনিরুল হক, গৌরনদী পৌর নাগরিক কমিটির সাধারন সম্বপাদক জহুরুল ইসলাম জহির, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, আসাদুজ্জান রিপন। বক্তব্য রাখেন শহীদ আলাউদ্দিন আলাবক্সের পুত্র লিটন আবদুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক চোকদার, আলহাজ্ব খান শামচুল হক, আ. মালেক খান, খলিলুর রহমান মাঝি, মজিবুর রহমান মাঝি, আ. ছালাম খান, কুদ্দুছ খান, আ. মজিদ সরদার, কমান্ডার মোতালেব হোসেন, আ. রব, আইডব্লিউএফের নির্বাহী পরিচালক কাজী আল আমীন, টিপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। এসময় বক্তারা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ না হলে লাগাতার অনশনের হুমকি দেয়।
উল্লেখ্য ’৭১ সনের ২৫ এপ্রিল পাকসেনারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে এ জনপদে প্রবেশের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। তাদের প্রবেশের খবর শুনে গৌরনদীর স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা গৌরনদীর কটকস্থল (সাউদেরখাল পাড়) নামকস্থানে বটগাছের পিছনের অংশে পাকসেনাদের প্রতিহত করার জন্য বাংকার খুঁড়ে তাতে অবস্থান নেন। হানাদাররা সেখানে পৌঁছলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পরে। সেইদিন (২৫ এপ্রিল) পাকসেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে প্রথম শহীদ হন গৈলার সিপাহী আলাউদ্দিন ওরফে আলাবক্স, নাঠৈ গ্রামের সৈয়দ আবুল হাসেম, চাঁদশীর পরিমল মন্ডল ও বাটাজোরের মোক্তার হোসেন। মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে ওইদিন ৮জন পাকসেনা নিহত হয়।