বরিশালে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে যুবতীর অনশন

বরিশাল টু-ডে ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর গ্রামে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করেছে তামান্না সাথী নামে এক যুবতী। এ ঘটনায় এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে প্রতারক প্রেমিকসহ তার পরিবারের লোকজন। সোমবার বিকেল থেকে ওই বাড়িতে অবস্থান করেছেন যুবতী তামান্না। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
যুবতী তামান্নার অভিযোগ ও স্থানীয়রা জানান, গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা গ্রামের মো. কেরামত সরদারের কন্যা তামান্না সাথীর ঘনিষ্ট বান্ধবী একই উপজেলার  খাঞ্জাপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের কন্যা মুক্তা বেগম । মুক্তার বাড়িতে তামান্নার আসা যাওয়ার সুবাদে বান্ধবী মুক্তার ভাই সেলিম হাওলাদারের সাথে তার পরিচয় হয়। পরবর্তিতে মোবাইল ফোনে তামান্নার সাথে সেলিম হাওলাদারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। উভয়ের মধ্যে গত দেড় বছর যাবত সর্ম্পক চলে আসছে।
তামান্না সার্থী অভিযোগ করেন,র্  গত ১২ মার্চ প্রেমিক সেলিম হাওলাদার ঢাকার নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেডের আদালতের মাধ্যমে তাকে বিয়ে করেন। ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবি এ,এন,এম সফদার কনের অভিভাবক ছিলেন। বিয়ের পর থেকে দেড় মাস তারা উভয়ে ঢাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী স্ত্রী হিসেবে সংসার করেন। প্রতারক সেলিম বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে। এক পর্যায়ে সেলিম বাড়িতে ফিরে এসে তামান্নার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এমনকি বিবাহ অস্বীকার করেন। তামান্না ঢাকা থেকে সেলিম হাওলাদারের বাড়িতে এসে তার কাছে স্বামী হিসেবে থাকতে চান। এতে সেলিম বিবাহ অস্বীকার করে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। বিষয়টি তামান্না এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অবহিত করলে সেলিম তাকে নানাভাবে হুমকি দেন। পরবর্তিতে সোমবার বিকেল ৪টায় তামান্না স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে সেলিমের বাড়ি এসে উপস্থিত হয়ে অবস্থান কালে সেলিম হাওলাদার, তার বোন মুক্তা বেগম, ভাবী শাহনাজ বেগম  টেনে হিচরে গালাগাল দিয়ে তামান্নাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় স্থানীয় গ্রাম্য মাতবররা তামান্নাকে পুনরায় সোমবার রাত তিনটায় ওই বাড়িতে দিয়ে আসেন। তারপর থেকে তামান্না স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ওই বাড়িতে অনশন কর্মসূচী পালন অব্যহত রাখেন। ওই বাড়িতে তামান্নার অবস্থানকালে প্রতারক সেলিম ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
তামান্না জানান, স্বামীর স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে  না তোলা পর্যন্ত সে অবস্থান কর্মসূচী পালন করবেন। অভিযোগের ব্যপারে জানার জন্য সেলিমের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেলিমের বোন মুক্তা বেগম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বান্ধবীর সাথে সেলিমের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের ঘটনার সত্যতা রয়েছে। ভাই স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তুললে আমাদের কোন আপত্তি নাই। গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম এ সম্পকে বলেন,  লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।