বরিশাল জেলার ১০টি বাড়ি লকডাউন

বরিশালের উজিরপুরে ৫টি, বাকেরগঞ্জে ৪টি এবং সদর উপজেলার একটি বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। উজিরপুরে এক ব্যক্তির করোনা সন্দেহে তার বাড়িসহ আশপাশের ৫টি বাড়ি লকডাউন, বাকেরগঞ্জের ছোট রঘুনাথপুর গামের এক ব্যক্তির করোনা সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ও তার বাড়িসহ ৪টি বাড়ি এবং বরিশাল সদর উপজেলার তালতলীর এক ব্যক্তির করোনা সন্দেহে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে মৃত্যুর পর ঐ বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন। সোমবার রাত ৯টায় উজিরপুরে ও একই দিন রাত সাড়ে ৮টায় সদরের তালতলীর ঐ বাড়ি এবং গতকাল মঙ্গলবার বাকেরগঞ্জের ঐ বাড়িগুলো লকডাউন ঘোষনা করা হয়। উজিরপুরের বাসিন্দা এমদাদুল কাশেম সেন্টু জানান, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাখালতলা কালীরবাজার এলাকার বাসিন্দা ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বেপারী (৬০) দুই দিন আগে জ¦র ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে বরিশাল নগরী থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। রবিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে। খবর পেয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রনতি বিশ^াস ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী সোমবার রাতে ওই ব্যক্তির বাড়ি যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঐ ব্যক্তির জ¦র সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথার উপসর্গের বর্ণনা শুনে প্রাথমিকভাবে তাকে করোনায় আক্রান্ত বলে সন্দেহ করেন। এসব উপসর্গের কারনে আব্দুর রশিদকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে ঐ বাড়ি সহ আশপাশের ৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষনা করে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ ওই ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আব্দুর রশিদ বেপারীর বাড়ি সহ ঐ ৫ টি বাড়ির সকল সদস্যকে নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রনতি বিশ^াস জানান, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে অসুস্থ আব্দুর রশিদ বেপারীর বাড়ি সহ ৫ টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়েনের ছোট রঘুনাথপুর গ্রামের ফারুক খলিফার স্ত্রী আমেনা বেগমের (৪৬) করোনা সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজওয়ানুর আলম জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই তিনি তীব্র জ¦র, শ^াসকষ্ট ও মাথা ব্যাথায় ভূগছেন। প্রথমে তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে প্রাথমিক ভাবে লক্ষন গুলো করোনার সাথে মিল থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে রোগীকে দ্রুত বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধবী রায় জানান, বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমাকে জানালে প্রশাসনিক ভাবে সেখানে রোগীর বাড়ি সংশ্লিষ্ট ৪টি বাড়ি লকডাউন করা হয়। এদিকে সোমবার বিকেলে করোনা সন্দেহে শের-ই-বাংলা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির পরপরই সদর উপজেলার তালতলীর ইউসুফ আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে। এর পরপরই সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঐ বাড়িটি লকডাউন করে জেলা প্রশাসন।