বরিশাল-ঢাকা রুটের আকাশপথে উড়োজাহাজের চলাচল অনুমান নির্ভর

কাইয়ুম আহমেদ ॥
বরিশাল বিমানবন্দরে আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় প্রতিদিন বরিশাল-ঢাকা রুটের আকাশপথের উড়োজাহাজগুলো চলাচল করছে অনুমান নির্ভর করে। এতে করে সপ্তাহে ৫দিন বিমান বাংলাদেশের পাশপাশি প্রতিদিন প্রতিদিন বেসরকারী ইউএস বাংলা, নভোএয়ার কোম্পানী একটি করে উড়োজাহাজ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ বিমানবন্দর আবহাওয়া সংকেত সরবরাহ করে বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরবর্তী বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্য দুরত্বের কারনে বৈষম্য হতে পারে যা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আঃ হালিম মিয়া ইত্তেফাককে জানান, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল বিমানবন্দর তাদের কাছ থেকে বাতাসের গতি, দৃষ্টিসীমা, বাতাদের দিক, বাতাসের চাপ ও মেঘের প্রকৃতির বিষয়ে তথ্য চেয়ে থাকে। কিন্তু উড়োজাহাজ ওঠানামার ক্ষেত্রে ঐ মুহুর্তের আবহাওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে গ্যাস বেলুন উড়িয়ে শক্তিশালী লেন্সের মাধ্যমে বেলুনের গতি ধারণ করে বাতাসের প্রবাহ নির্ণয় করা হয়। আবহাওয়া প্রতি মূহুর্তেই পরিবর্তন হয়ে থাকে তাই তাদের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দূরবর্তী এলাকার বিমানবন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উড়োজাহাজ ওঠা-নামার জন্য প্রয়োজনীয় পেতে বিমানবন্দরেই আবহাওয়া স্টেশনের প্রয়োজন বলে জানান আবহাওয়া অফিসের একাধিক কর্মকর্তা।
বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক (সহকারী এ্যারোড্রাম অফিসার) রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী জানান, বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে তারা আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্যের বিষয়ে তিনি ঢাকায় যোগাযোগ করতে বলেন। তবে এ বিমানবন্দরের বিশ^স্ত একটি সূত্র জানায়, বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া আবহাওয়া তথ্য ও দায়িত্বরতের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানে তীব্র শীতে ঘন কুয়াশা বাতাসের গতি এবং দিক, আলোর পরিমান, বায়ুর উপরিভাগের চাপ সহ গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো দিতে হচ্ছে অনুমান নির্ভর ভাবে।
তবে বরিশাল বিমানবন্দর ও আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে উভয় দপ্তর বিমানবন্দরে আবহাওয়া ইউনিট স্থাপনের বিষয়ে চিঠি আদান-প্রদান করছে।
এদিকে আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় দিনের বেলাতেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল রত এ রুটে চালু হতে যাচ্ছে রাত্রিকালীন সার্ভিস। বরিশাল বিমানবন্দরের সাব স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার (ইলেকট্রিক) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন রানওয়ে লাইটিং প্রায় সম্পন্নের পথে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের মধ্যেই রাত্রিকালীন সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত করা হবে রানওয়ে। দিনের বেলাতে অনুমান নির্ভর এ বিমানবন্দরে রাত্রিকালীন সময়ে কিভাবে আবহাওয়া বার্তা প্রদান করবে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল-ঢাকা রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ইত্তেফাককে জানান, আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ ওঠা-নামায় ঝুঁকি রয়েছে। দক্ষিনাঞ্চলে নির্মিত তৃতীয় পায়রা সমুদ্রবন্দর ও ব্যাপক উন্নয়নের ফলে নতুন নতুন উদ্যোক্তরা আসছেন। এতে করে যাত্রী চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাত্রিকালীন সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় দিনের বেলাতেই ঝুঁকি থাকছে সেক্ষেত্রে রাতে ঝুঁকি আরো বাড়ছে। তাই ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে তিনি আগে আবহাওয়া ইউনিট চালু পড়ে রাত্রিকালীন সার্ভিস চালুর দাবী জানান।
এ রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা জানিয়েছেন বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণের সময় একাধিকবার উড়োজাহাজ অবতরণ না করে পুনরায় ফিরে গেছেন। একই আবহাওয়ায় বেসরকারী উড়োজাহাজ অবতরণ করলেও বিমান বাংলাদেশের পাইলট অবতরণ না করে ফিরে যান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পাইলট অন্য দেশের তাই আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় তিনি বিমান বাংলাদেশের ঐ উড়োজাহাজটি অবতরণ না করিয়ে ফিরে যান। তবে বেসরকারী বিমান ঝুঁকি নিয়ে অবতরণ করায় সে সময়ে যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এ অবস্থায় যাত্রী চাপ বিবেচনায় দিনের পাশাপাশি রাতেও সার্ভিস চালু থাকলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে থাকছে না কোনো পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত ঃ ১৯৮৫ সালে ১৬০ একর জমির উপর দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র বিমানবন্দর নির্মিত হয় বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে। নির্মানের ১০ বছর পর ১৯৯৫ সালের ১৭ জুলাই এরোবেংগল এয়ারলাইন্সের বিমান সর্বপ্রথম ডানা মেলে বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে। নির্মানের পর থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র এ বিমানবন্দরে যাত্রী চাপ থাকলেও নানান টালবাহানায় একাধিকবার অচল করে রাখা হয়। দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে সর্বশেষ ২০১৫ সালে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে পুনরায় সচল হয় এ বিমানবন্দর। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমান ও ১০ জুলাই বেসরকারী ইউএস বাংলা উদ্বোধনের পর থেকে যাত্রী পরিবহন করে আসছে। বেসরকারী অপর জাহাজ নভোএয়ার ২০১৬ সালের জুলাই মাসে উদ্বোধনের পর একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর সার্ভিস গুটিয়ে নিলেও ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত সার্ভিসে আসে। বর্তমানে সপ্তাহে ৫দিন বিমান বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিদিন বেসরকারী ইউএস বাংলা, নভোএয়ার কোম্পানী একটি করে উড়োজাহাজ যাত্রী পরিবহন করছে।