রাজাপুর থানায় হামলা ভাংচুর : মার খেয়ে আহত হয় দারোগা পুলিশ ॥ টাকা পায় ওসি আতাউর রহমান

রাজাপুর থেকে ফিরে মামুনুর রশীদ নোমানী ॥ বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার চান্দুখালী গ্রামের মোঃ আতাউর রহমান। দারিদ্র পরিবারে জন্ম হয়। টানা পোড়নের মধ্যে থেকে শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৯১ সালের ৮ জানুয়ারি পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। ধাপেধাপে এগিয়ে যান তিনি। বিএনপি সরকারের সময়ে বিএনপি ও জামাত আদর্শের অনুসারী হন। আ’লীগ ক্ষমতায় থাকলে হন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক। সুবিধাবাদী এই অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান এখন গাড়ি, ফ্ল্যাট, একর একর জমির মালিক। কাঠালিয়ায় ওসি থাকা কালিন সময়ে তিনি আপাদ মস্তক একজন আ’লীগের সৈনিক ছিলেন কাজ কর্মে। রাজাপুরে এসে আ’লীগ ও বিএনপি উভয় দলকে ম্যানেজ করে চলেন। এলাকায় জামায়াতকে নিয়মিত তিনি চাঁদা প্রদান করেন। ছোট বেলা থেকেই ছিলেন নারীদের প্রতি দুর্বল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগদানের পরেও তার সেই পুরনো অভ্যাস বদলায়নি। তিনি রাজাপুরের এক প্রবাসীর স্ত্রী ও কাঠালিয়ায় এক গৃহবধূকে উত্যাক্ত করেছেন। এমনকি একজনকে কিসও করেছিলেন। সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। চাপিয়ে দেন এক নিরীহ দারোগার ওপর। মোঃ আতাউর রহমান কাঠালিয়ায় ও রাজাপুরে দালাল নিয়োগ দিয়ে এমন কোন অপকর্ম নেই যা করেননি। তার বিরুদ্ধে দালালদের মাধ্যমে ইয়াবা, ফেন্সি বিক্রি, ইটভাটা থেকে চাঁদা আদায়, মটর সাইকেল চালকদের থেকে মাসিক মাসোহারা, তালিকাভুক্ত চোর, টাউট বাটপার, ডাকাতদের থেকে নিয়মিত উৎকোচ নেয়া, টমটম, ভটভটি, ট্রাক চালকদের থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ই যেন তার একমাত্র কাজ। থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলেও নেয়া হয় ৫শত থেকে ১ হাজার টাকা। গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে আসামীরা গল্প গুজব করেন তার রুমে। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে অনেক দুর্নীতি, অনিয়ম, নারী কেলেংকারী ঘুষ, উৎকোচ, অসৎ উপায় অর্থ উপার্জনের বিষয়। তিনি অর্থের কাছে অন্ধ। অর্থই যেন তার একমাত্র প্রভু। তিনি এসপির আদেশ ও পরোয়া করেন না।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানা। এ উপজেলাটির আয়তন ১৬৪ বর্গ কিলোমিটার। ২ লাখ ৪৯ হাজার ১২জন লোকের বসবাস। ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ থানা এলাকা। রয়েছে ৭২টি মৌজা। এই উপজেলার উত্তরে ঝালকাঠি, দক্ষিণে কাঠালিয়া, পূর্বে নলছিটি এবং পশ্চিমে কাউখালী উপজেলা। প্রবাদ রয়েছে দেখতে ভালো কুড়োকুড় থানার মধ্যে রাজাপুর। রাজাপুরে জন্ম হয় বাংলার বাঘ শেরেবাংলা একে ফজলুল হক। এখানে রয়েছে অসঙখ্য মনিষীদের মাজার। পীর আউলিয়ার এই থানায় এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক অবস্থা। রাজাপুর থানায় সিটিজেন চার্টার রয়েছে। এখানে উল্লেখ রয়েছে, রাজাপুর থানার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, ইভটিজিং, অপহরণ, মাদক, খুন এর অপরাধ রোধ করা। মামলা তদন্ত, আসামী গ্রেফতার ও বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা। মাদকদ্রব্য উদ্ধার। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। জঙ্গী গ্রেফতার, টেন্ডার কাজে আইন-শৃঙ্খলার সহায়তাদান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে, মোড়ে চেকিং ডিউটি।
রণপাহারা। দিবা পাহারা জনগণের জানমাল নিরাপত্তা রক্ষা। বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক দ্রব্য উদ্ধার, অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতারী পরোয়ানার আসামী গ্রেফতার, সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতারসহ ২৫টি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। রাজাপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে ২০১২ সালের ১০ আগষ্ট যোগদান করে রাজাপুরে দালাল নিয়োগ দিয়ে ঘুষ ও উৎকোচ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন, অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান। তিনি ভুলে গেছেন সিটিজেন চার্টারে উল্লেখিত দায়িত্বের কথা। গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে আসামী থানার সামনে ঘুরলেও তিনি আটক করছেন না। দাগি, সন্ত্রাসী, ডাকাত ও বাটপারদের সাথে সখ্যতা থাকায় রাজাপুরে একের পর এক ঘটনা বেড়েই চলছে।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানায় হামলা ভাংচুর। মার খেয়ে আহত হয় দারোগা পুলিশ। টাকা পায় অফিসার ইনচার্জ। ১০ লাখ টাকা ফসকে গেল ওসির হাত থেকে। আসামীদের পক্ষে কাজ করছেন খোদ রাজাপুর থানার ইনচার্জ আতাউর রহমান। সরেজমিন ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২২ জুন কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজাপুরে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি পুরাতন জেলখানার সামনে গেলে কোন কারণ ছাড়াই এসআই অমর সিংহ ও এসআই রফিকুল ইসলাম মিছিলে লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি অবনতির জন্য অমর সিংহ অতি উৎসাহ হয়ে এ সময় বলে গুলি কর। এ সময় মিছিল লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি করা হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হামলা চালায় রাজাপুর থানায়। পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলে গুরুতর আহত হয় এসআই আতিকুর রহমান। তাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া একাধিক এসআই এএসআই ও পুলিশ সদস্যরা আহত হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ২২ জুন বিক্ষোভ মিছিল করবে বিএনপি । সৃষ্টি হতে পারে গন্ডগোল এ রকম তথ্য জানার পরেও রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান ছুটিতে যান ২০ জুন বৃহস্পতিবার। ২২ জুন এত বড় ঘটনা ঘটলেও রাজাপুরে আতাউর রহমান ফিরেন ২৩ জুন। এসেই রাজাপুর থানা হামলা ও ভাংচুর, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা ২টি বিতর্কিত করার জন্য এ ২ মামলায় প্রতিবন্ধী, দোকানদার সহ ১শত ২২জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতসহ ৪শত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অথচ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিক্ষোভ মিছিলে দেড় শতাধিক নেতাকর্মী ছিল। অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয় বাণিজ্যের জন্য বলে জানিয়েছেন রাজাপুরের রাজনৈতিক ও বিজ্ঞজনেরা। পুলিশের হাতে আটক হয় ১৯জন। এদের মধ্যে ৬জনকে রিমান্ডে আনা হয়। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান তার ঢাকার মগবাজারের ফ্ল্যাট বাসা থেকে ফিরেই রাজাপুর থানা হামলা, ভাংচুর, পুলিশ আহত হওয়ার ২টি মামলা নেগোশিয়েশনের জন্য চেষ্টা চালায়। আসামী গ্রেফতার ও রিমান্ডে নির্যাতন না করা হয় এজন্য বিএনপির এক শীর্ষ নেতা থেকে তিনি ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন ২ লাখ টাকা। পুরো মামলা নিষ্ক্রিয় করা ও ফাইনাল চার্জশীটের জন্য ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয় আতাউয়ের সাথে বিএনপির ওই শীর্ষ নেতার। ঘটনাটি পুলিশের মধ্যে ফাঁস হয়ে গেলে চুপসে যান আতাউর রহমান। রাজাপুরে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে আতাউর রহমান যোগদানের পরই রাজাপুরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে থাকে। থানার ৫০ গজের মধ্যে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা, মাদক ব্যবসা, হামলা ও ভাংচুরসহ সর্বোপরি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় রাজাপুরে। র‌্যাব-৮, পুলিশ সুপার মজিদ আলী এবং সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের তৎপরতায় কিছুটা হলেও রাজাপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। মাঝে মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন রাজাপুর থানাকে না জানিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। এদিকে দায়ীদের গ্রেফতার এর জন্য দাবি জানিয়েছে রাজাপুর আ’লীগ। এত বড় ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি রাজাপুর থানা পুলিশ। রাজাপুর থানা এলাকায় সংঘটিত ঘটনা। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও তা ধামাচাপা পরে যাচ্ছে ।
কেস স্ট্যাডি-১ ঃ
১৯৭১ সালের ২৩ নভেম্বর রাজাপুর হানাদার মুক্ত হয়। ৭১ এর ২২ নভেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাপুর থানায় আক্রমন চালায়। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। এতে শহীদ হন আঃ রাজ্জাক ও হোসেন আলী এই ২ মুক্তিযোদ্ধা। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৯নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শাজাহান ওমর (ক্যাপ্টেন ওমর নামে ওই সময় পরিচিতি ছিলেন)। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউরের রহস্যজনক ও আতাত কর্মকাণ্ডের ফল রাজাপুর থানা ভবন ভাংচুর ও পুলিশের ওপর হামলা। ১০ মার্চ ২০১৩ সালে গণপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে ২ কোটি ৫ লাখের অধিক টাকা ব্যয়ে থানা ভবনটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর। সুন্দর পরিপার্টি নবনির্মিত থানা ভবনটির চেহারা আজ বিধ্বস্ত। থানা ভবনটি আধুনিক হলেও আধুনিক ও কর্মদক্ষ হতে পারেননি অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান। যে দিন থানা ভবন উদ্বোধন করা হয় এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন কোন সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা সহ্য করা হবেনা। অথচ রাজাপুর উপজেলার জগাইরহাট গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমীর কৃষ্ণ দাস পরিবারকে স্থানীয় ভূমিদস্যু গ্র“প বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত সমীর কৃষ্ণ দাস রাজাপুর থানায় মামলা করতে এলে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান মামলা না নিয়ে শালিসী করে দিবে বলে পাঠিয়ে দেয় সমীর কৃষ্ণ দাসকে। মিমাংসার জন্য সমীরের প্রতিপক্ষ বিপ্লব এর থেকে ৫ হাজার টাকা নেয় অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান। তিনি সমীরের থেকে লিখিত অভিযোগ, মামলাও নেননি। মিমাংসাও করে দেননি।
কেস স্ট্যাডি-২ঃ
রাজাপুর উপজেলার উত্তর মনোহরপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় সোহাগ নামের একজনকে কুপিয়ে জখম করে । প্রতিপক্ষ সোহাগের অবস্থা অবনতি হলে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখান থেকে ওসি সোহাগ ও প্রতিপক্ষ শাহাবুদ্দিন শাহু ২পক্ষের থেকেই উৎকোচ নেয়। কোন ব্যবস্থা নেয়নি থানা। অথচ মোঃ আতাউর রহমান ১৮ জুন সাংবাদিকদের বলেছিলেন ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কেস স্ট্যাডি-৩ঃ
রাজাপুরে চলতি বছরের মে মাসে বিএনপির ২ গ্র“পের সংঘর্ষ হয়। এতে সোহেল ওরফে ডাকু সোহেল নামে একজনের মৃত্যু হয়। ডাকু সোহেলের মৃত্যু হয় পুলিশ হেফাজতে। ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে গেছে। আতাউর রহমানের সাথে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে দায়িরা ঘুরছে প্রকাশ্যে।
কেস স্ট্যাডি-৪ঃ
উপজেলার পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামে ১৩ ফেব্র“য়ারি রাতে কৃষক আঃ কাদের গাজীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবার মিলন গাজীকে দায়ী করে থানায় বলা হলেও এখন পর্যন্ত মিলন গাজী গ্রেফতার হয়নি। জনশ্র“তি রয়েছে মিলন গাজী ওসিকে ম্যানেজ করেছে উৎকোচ দিয়ে।
কেস স্ট্যাডি-৫ঃ
আদালতের নির্দেশের পরেও স্কুল ছাত্র আলিফ হত্যা মামলা থানায় রেকর্ড করেননি অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান। ১৪ দিনেও আলিফ হত্যা মামলা রাজাপুর থানায় এজাহার হিসেবে গণ্য না করায় দৈনিক সংবাদে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল শিরোনাম হন ওসি মোঃ আতাউর রহমান। আলিফকে হত্যা করার পর ২০ মার্চ আলিফের মা থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেয়নি। ওসি তাকে বলে দিলেন, একটি ইউডি মামলা হয়েছে তাই মামলা নেয়া যাবে না। অসহায় আলিফের মা সালমা বেগম ঝালকাঠি আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করে। ১৪ দিনেও এজাহার ভুক্ত করেনি মামলাটি ওসি। সংবাদপত্রে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পরে ওসি এজাহার ভুক্ত করে মামলাটি। ওসির খোড়া অজুহাত ছিল ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর এজাহার হিসেবে নেয়া হবে। ১৫ দিনের মাথায় মামলাটি রেকর্ড হয়। এখানেও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়েছিল আতাউর রহমান বলে জানিয়ে ছিলেন সালমা বেগম।
কেস স্ট্যাডি-৬ঃ
রাজাপুর থানার ৫০ গজের মধ্যে বেশ কয়েকটি স্বর্ণের দোকানে চুরি সংঘটিত হয়। গোডাউর রোডের তৃপ্তি জুয়েলার্সে, বাগড়ির মনির জুয়েলার্সে, থানার সামনে মা জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে থানার সামনের মা জুয়েলার্সে পরপর ২ বার চুরি হয়। এতে আতংকিত হয়ে পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। এ ৪টি চুরির ঘটনায় একজনকেও আটক করতে পারেনি বরং ওসি তখন বললেন, চুরি ঠেকাতে রাতে সোনার দোকানে লোক থাকতে হবে। অথচ সিটিজেন চার্টারে উল্লেখ রয়েছে রণপাহারা। দিবা পাহারা দিয়ে জনগণের জানমাল নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চোর দলের সাথে ওসির দালালের সাথে রয়েছে সখ্যতা। ফলে ওইসব সংঘবদ্ধ চোরের দল পার পেয়ে যায় বারবার।
কেস স্ট্যাডি-৭ঃ
ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী শিশু লামিয়া অপহৃত হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মঠবাড়ী ইউনিয়নের ইন্দ্রপাশা গ্রামের দাদা বাড়ী থেকে। দিনটি ছিল শুক্রবার। রাত ৮টার দিকে লামিয়ার ফুফাতো ভাই মামুন অপহরণ করে নিয়ে যায়। লামিয়ার মা মাকসুদা বেগম ওসি মোঃ আতাউর রহমানকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে ওসি মাকসুদা বেগমকে ধমক দিয়ে বলেন, মেয়ে কারো সাথে না গেলে কি জোর করে কেউ নিতে পারে বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন। ২৬ জানুয়ারি লামিয়ার মা ৪জনকে আসামী করে মামলা করে অনেক দেন দরবার করে। পুলিশ সুপার ও উর্ধ্বতন পুলিশের আন্তরিকতার কারণে গাজিপুর থেকে উদ্ধার করা হয় অপহরণের ১৪ দিন পর। এসআই বাদল ও উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা আন্তরিক না হলে লামিয়াকে উদ্ধার করা সম্ভব হত না বলে জানিয়ে ছিলেন সেই সময়ে লামিয়ার মা মাকসুদা বেগম। তিনি বলেছিলেন ঘটনার সাথে জড়িত ২জনকে পুলিশ আটক করলেও থানা নিয়ে এসে বিপুল পরিমাণ উৎকোচের বিনিময়ে তাদের ২জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।
কেস স্ট্যাডি-৮ঃ
রাজাপুরে রামদা মহড়ার মত ঘটনা ঘটেছে থানার সামনেই। অথচ পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়। এভাবে রাজাপুরের ঘটনা নিত্যদিনের।
কেস স্ট্যাডি-৯ঃ
রাজাপুর উপজেলার ডিগ্রী কলেজ এলাকায় দিন মজুর শহীদুল ইসলামের ঘরবাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এমনকি ভাতের পাতিলে ভাত ভর্তি পাতিল পর্যন্ত ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়েও ওসি আতাউর যাননি ঘটনাস্থলে। থানায় শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করতে গেলে মামলা না নিয়ে ওসি মোঃ আতাউর রহমান থানা থেকে তাড়িয়ে দেন। অথচ রাজাপুর থানায় ওসি মোঃ আতাউর রহমান যোগদানের পর থানা জামে মসজিদে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। মাঝে মধ্যে তালিমি বক্তব্যও দিয়েছিলেন। মুখোশ উন্মোচন হওয়ার পর মুসল্লিরা তার তালিম না শুনে মসজিদে থেকে বের হয়ে যান।
কেস স্ট্যাডি-১০ঃ
রাজাপুর থানায় ওসি মোঃ আতাউর রহমান যোগদানের পর বিশ্বস্ত হিসেবে বেছে নেয় এসআই অমর সিংহকে। এই অমর সিংহ মঠবাড়ী ইউনিয়নের পুখুরী জানা গ্রামের গৃহবধূ হেনোয়ারা বেগমকে লাঠিপেটা করে। এ ঘটনা যাতে ফাঁস না হয় এজন্য ওসি ও তৎকালিন পিএসআই বর্তমানে এসআই অমর সিংহ হুমকি দেয় হেনোয়ারা বেগমকে। ভয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে ছিলেন তৎকালিন সময়ে হেনোয়ারা দোকান ও ঘরে তালা দিয়ে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, হেনোয়ারার প্রতিপক্ষ হেলেনা পারভিন, কাঞ্চন আলী ও আজমীর শরীফ থেকে ওসি ও অমর সিংহ উৎকোচ নিয়েছিল। ফলে হেনোয়ারাকে অমর সিংহ রেন্টি গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
কেস স্ট্যাডি-১১ঃ
উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বাইপাস মোড়। এখানে বসবাস করে আইউব আলী শরীফ। তার বিরুদ্ধে জমিজমার কাগজপত্র জালিয়াতি মামলা রয়েছে। মামলায় আদালত ওয়ারেন্ট জারি করে। আইউব আলী শরীফ বাইপাস এর ঘরে রাত্রিযাপন করলেও তাকে গ্রেফতার করছেনা রাজাপুর থানা। জানা গেছে, ওসি মোঃ আতাউর রহমানের সাথে তার রয়েছে টাকা বিনিময়ের সখ্যতা। অথচ সিটিজেন চার্টারে লেখা রয়েছে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামী গ্রেফতার করতে হবে। রাজাপুর থানায় গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করা হচ্ছে না রহস্যজনক কারণে।
কেস স্ট্যাডি-১২ ঃ
রাজাপুর দক্ষিণ বাঘরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম চান। রাজাপুর উপজেলার টিএন্ডটি রোডের ৬০ শতাংশ জমি থেকে তার বাবা ও তিনি ৩৫ শতাংশ ক্রয় করে বসবাস করে আসছেন। আদালত থেকে তাদের দলিল করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ২০১২ সালের ১১ আগষ্ট ফারুক নজরুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে তার জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। নজরুল ইসলাম আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করেন। ওই জায়গায় আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। ২৩ অক্টোবর ফারুক ও পাল্টা মামলা দায়ের করে। আদালত দোতরফা শুনানী অন্তে ওই জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। নবাগত ওসি আতাউর রহমানের কাছে যায় আদালতের আদেশ ও পুলিশ সুপার এম মজিদ আলীর নির্দেশ কপি নিয়ে। কারণ ৫ ডিসেম্বর আবার ফারুক নজরুল ইসলামের জমিতে নির্মাণ কাজ শুরু করলে। ডিসেম্বর মাস ছিল আদালতে ছুটি। এই সুযোগ। দুর্নীতির ঘটনায় কারাবরণকারী বহুল আলোচিত অডিটর ফারুক এর নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়েছিল ওসি আতাউর রহমান। আদালতের আদেশ কার্যকর করতে পুলিশ সুপার এর লিখিত নির্দেশও আমলে নেননি এই বিতর্কিত ওসি আতাউর রহমান।
কেস স্ট্যাডি-১৩ ঃ
রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামের প্রবাসী শাজাহান হাওলাদারের ঘরে চুরি সংঘটিত হয়। চোর চক্রটি চাপে পরে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের আংশিক ফেরৎ দেয়। এ ঘটনায় প্রবাসী শাজাহানের স্ত্রী রিনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। চোর চিহ্নিত হওয়ার পরেও থানা চোরদের থেকে উৎকোচ নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
কেস স্ট্যাডি-১৪ ঃ
রাজাপুরের আলগী গ্রামে পৈত্রিক জমির দখল ঠেকাতে গেলে প্রতিপক্ষ থানার ওসি আতাউরকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে লোকমানের বিরুদ্ধে ২টি মামলা করে তাকে ২ দিন থানায় আটকিয়ে রাখে। সে সুযোগে ওসি আতাউরের নির্দেশে এসআই বাদল ফকির এর সহায়তায় এবং তার উপস্থিতিতে লোকমানদের জমি দখল করে। ২ দিন পর গ্রেফতার দেখিয়ে লোকমানকে আদালতে পাঠায়। লোকমান এখন পৈত্রিক জমি ফেরৎ ও মিথ্যা হয়রানী মূলক মামলা থেকে রেহাই পাবার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেস স্ট্যাডি-১৫ ঃ
কাঠালিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করার পরপরই কচুয়া, শৌলজালিয়া ,চেচরী রামপুরের চিহ্নিত বাটপারদের দালাল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য শুরু করে। কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় জাপা মঞ্জু গ্র“পের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হারুন -অর -রশীদের মামলা না নিয়ে প্রতি পক্ষের মামলা নেয়ার কারণে হারুন অর রশীদ লিখিত অভিযোগ দেয় ডিআইজির নিকট। ডিআইজি ঝালকাঠি পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। ঝালকাঠির এসপি ঘটনা সত্যতা যাচাই করার জন্য সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। হারুনের অভিযোগ ২০১২ সালের ৬ জুন কচুয়া বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে প্রতিপক্ষ মারুফ কুপিয়ে জখম করে। হারুনের অভিযোগ নেননি ওসি ।ওদিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন মারুফের পাল্টা মামলা। হারুনকে ওসি আতাউর বলে দিলেন, হারুন সাহেব মারুফের সাথে বিরোধ মিটিয়ে ফেলেন নয়ত আপনাকে মারুফের মামলায় গ্রেফতার করে চালান করে দেব। হারুন জানায়, বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছে মারুফের থেকে ওসি আতাউর রহমান। প্রকৃত বিচার পাওয়ার জন্য হারুন অর রশীদ ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়।
কেস স্ট্যাডি-১৬ ঃ
কাঠালিয়া থানার পাটিকেল ঘাটার লিমার কাছ থেকে মামলা ফাইনাল দেয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা নেন ওসি আতাউর রহমান। টাকা নিয়েও ফাইনাল দেননি মামলাটি। টাকা ফেরৎ চাইলে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে থানা থেকে বের করে দেয় আতাউর। মামলাটি ছিল মারামারির।
কেস স্ট্যাডি-১৭ ঃ
কাঠালিয়ার আমুয়ায় মোল্লা ব্রিক ফিল্ডে এক শ্রমিক মাটি চাপা পরে নিহত হয়। নিহতের পরিবার থানায় গেলে ওসি আতাউর বলেন, মালিকের কাছ থেকে টাকা নেন। মামলা নেয়া যাবেনা এটা অপমৃত্যু। মোল্লা ব্রিক ফিল্ডের মালিক থেকে এ সময় এক লক্ষ্য টাকা নেয় ওসি আতাউর রহমান। ব্রিক ফিল্ডের মালিক নিহতের পরিবারকে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করে। ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয় ওই নিহত শ্রমিকের।
কেস স্ট্যাডি-১৮ ঃ
কাঠালিয়ার উত্তর চেচরির বেল্লাল ঝালকাঠির কীর্তিপাশার সনাতন আচার্য্যরে বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। মামলা ফাইনাল দেয়ার জন্য সনাতন আচার্য্য থেকে ৪০ হাজার টাকা নেন ওসি আতাউর। মামলায় চার্জশীট প্রদান করা হয়। আদালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ হয়। ৪০ হাজার টাকা ফেরৎ দেয়নি আতাউর রহমান।
কেস স্ট্যাডি-১৯ ঃ
কাঠালিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে অসৌজন্যে মূলক আচরণ, ঘুষ বাণিজ্য’র কারণে কাঠালিয়া থেকে রাজাপুরে বদলী করা হয়। কাঠালিয়া থানার ওসির রুমে বসে ওসির দালালরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় সাংবাদিক নাসিরকে। নিরব থাকে ওসি আতাউর রহমান । এ ঘটনায় নাসির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যা তদানন্তিন রয়েছে।
কাঠালিয়া থানায় তিনি থাকা কালিন শুধু ১ মাসেই কাঠালিয়ায় ৫টি ডাকাতি, ৮টি চুরি, ১টি খুন, ১টি বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার, ২টি অপমৃত্যু, ১৬টি সংঘর্ষ ও বেশ কয়েকটি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কাঠালিয়া থানার ওসি থাকাকালে তিনি তার গাড়িতে দালালদের নিয়ে ঘোরাফেরা এমনকি ওই দালালদেরকে থানার গাড়িতে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়া হত। আগষ্টে ২০১২ বদলী করে দেয়া হয় রাজাপুরে।
কেস স্ট্যাডি-২০ ঃ
কাঠালিয়ায় ওসি থাকাকালিন সময়ে কচুয়ার এক নারীর সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ওসির রুমে তাকে প্রতিনিয়ত দেখতে পেত থানার দর্শনার্থীরা। ওই নারীকে কিস করেন ওসি আতাউর। পরে এ ঘটনা ফাঁস হলে চতুর ওসি দারোগা সেলিমের মাথায় চাপিয়ে দেয়। দারোগা সেলিম হয় কাঠালিয়া থানা থেকে সাসপেন্ড ।
কেস স্ট্যাডি-২১ ঃ
রাজাপুর থানায় যোগদান করেই আবারো নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পরে। রাজাপুর উপজেলার বলই বাড়ী এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী থানায় যায় সাধারণ ডায়েরী করতে। নজর পরে ওসি মোঃ আতাউর রহমানের। আতাউর রহমান কৌশলে ওই গৃহবধূর নম্বরটি নিয়ে নেন। গৃহবধূকে প্রায়ই ওসি মোঃ আতাউর রহমান তার নিজস্ব ০১৭৭২-০৬৮৩৩৩ নম্বর থেকে কল করেন। কু-প্রস্তাব দেয়। ভালোবাসার কথা বলে। ওই গৃহবধূ ওসির উত্যাক্ত সহ্য করতে না পেরে মোবাইলের সিম পরিবর্তন করেন। সামাজিক কারণে কচুয়া ও বলই বাড়ীর ওই ২ গৃহবধূর নাম দেয়া হলনা। বলই বাড়ীর ওই গৃহবধূ জানান ওসির কুপ্রস্তাব অগ্রাহ্য করলে সে মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছিল। লোকলজ্জার ভয়ে কারো কাছে মুখ খোলেনি ওই গৃহবধূ।
কেস স্ট্যাডি-২২ ঃ
রাজাপুরে ওসি হিসেবে যোগদান করেই ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল, টমটম চালক, ভটভটি চালকদের থেকে প্রতি মাসে প্রতি গাড়ি বাবদ ২ থেকে ৩শত টাকা আদায় করে আসছে।
কেস স্ট্যাডি-২৩ ঃ
রাজাপুরের শতাধিক ইট ভাটা/পাজা/পুইন থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে। পাজা ও পুইন প্রতি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা এবং ইট ভাটা থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করে।
কেস স্ট্যাডি-২৪ ঃ
রাজাপুরে রয়েছে একটি শক্তিশালী মাদক ব্যবসায়ী। এরা ইয়াবা ও ফেন্সিডিল বিক্রি করে। ওসি প্রতিদিন নির্ধারিত হারে তাদের থেকে অর্থ নেয়।
কেস স্ট্যাডি-২৫ ঃ
রাজাপুরের বড়ইয়ার পালট গ্রামের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এক লম্পট। ওই ছাত্রী গর্ভধারণ করে। জোর করে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এ ঘটনায় রাজাপুর থানায় যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ওসি ধর্ষণ মামলা না নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা করার কথা বলে ক্ষতিগ্রস্থদের। তালবাহানা শুরু করে তাদের সাথে খোদ ওসি। পরে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সংবাদ সম্মেলন ও এসপির সাথে দেখা করে। পরে বাধ্য হয়ে ওসি ধর্ষক হাইদুল ইসলাস সাইফুলকে আটক করে। ৪ মাস তালবাহানা করে ওসি মোঃ আতাউর রহমান। ওসি সাইদুল থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছিল বলেছে জেলে থাকা অবস্থায় সাইদুল।