স্বামীর বাসায় মিলল জাবি ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ

পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সদ্যসাবেক এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকার সাভারের রেডিওকলোনিতে স্বামীর বাসা থেকে বুধবার সকালে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪০ ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীর নাম জেসি ইসলাম। তার অনার্সের সিজিপিএ ৩.৭৯ ও মাস্টার্সের সিজিপিএ ৩.৭২ (৪ এর স্কেল)।

ওই ছাত্রীর বন্ধু ও সহপাঠীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে থেকে জুনিয়র ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সজিব সাহা শুভ্রর সঙ্গে প্রেম ছিল তার। সজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাদের দুইজনেরই গ্রামের বাড়ি মাগুরায়।

বছর তিনেক আগে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন সজিব ও জেসি। বছরখানেক আগে ভিন্ন ধর্মের ছেলেকে বিয়ের বিষয়টি জেসির পরিবারে জানাজানি হলে পরিবার বিয়ে মেনে নেয়নি এবং জেসিকে ফিরে যেতে চাপ দেয়।

দুইজনের পরিচিতরা জানিয়েছেন, সজিবের মাদকাসক্তির বিষয়টি নিয়ে কয়েকমাস ধরে খুবই হতাশ ছিলেন জেসি। জেসির সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, ‘সম্পর্ক গুলোর গুরুত্ব দিন দিন আমার কাছে কমেই চলেছে। একদিন প্রতিটা সম্পর্ককে অনেক সময় দিয়েছি,সম্পর্ক গুলোকে টিকিয়ে রাখতে অনেক ইফোর্টও দিয়েছি। তবে আজ মনে হয় সবটাই ভুল ছিল।’ এসব কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন তার বন্ধুরা।

তবে তাদের প্রতিবেশীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে এটি হত্যাকাণ্ড কারণ, ওই কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়ার মত জায়গা নেই।

অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন বলেন, এভাবে একজন মেধাবী ছাত্রীর চলে যাওয়া দুঃখজনক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সহকারী পরিচালক (মনোবিজ্ঞান) ইফরাত জাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রেম সংক্রান্ত কারণে বেশি হতাশ তারা। এজন্য তাদের কাউন্সেলিং প্রয়োজন।

এদিকে, এ ঘটনায় জেসির স্বামীকে প্রথমে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়।

সাভার মডেল থানা পুলিশের ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনও একসময় জেসি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। বাবা ও স্বামীর লিখিত অনাপত্তিপত্রের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুপুরে বাবার কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।