হারানো স্মৃতি ফেরাতে গবেষণা

 রেশমা ইয়াসমিন ॥ ‘মেমোরি স্টিমুলেটার’-এর মাধ্যমে এবার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ফিরে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন মার্কিন সামরিক গবেষকরা। গবেষকরা এবার মস্তিষ্কে ইমপ্লান্ট বসিয়ে সেই ‘মিসিং লিংক’ আবার ভরাট করার তোড়জোড় করছেন। খুবই গোপন সেই কর্মসূচি। মানুষের মস্তিষ্কের রহস্য উšে§াচন করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ১০ কোটি ডলার অঙ্কের যে উদ্যোগ শুরু করেছেন, তারই আওতায় সামরিক গবেষকরা চার বছরের এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তারা এমন ‘মেমোরি স্টিমুলেটার’ তৈরি করতে চান, যা স্মৃতিভাণ্ডারকে উসকে দিতে পারবে। তাদের মূল উদ্দেশ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈন্যদের স্মৃতিশক্তি ফিরিয়ে আনা। তবে আলঝেইমার রোগের রোগীদের উপরও এই প্রযুক্তির প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রযুক্তি যদি এই অসম্ভবকে সম্ভবও করে তোলে, তারপরেও নৈতিকতার প্রশ্ন থেকে যায়। মানুষের মস্তিষ্কে এমন ‘ম্যানিপুলেশন’-এর পরিণাম কী হতে পারে, সেটাও চিন্তার বিষয়। কারণ সে ক্ষেত্রে মানুষের আত্মপরিচয় বদলে যেতে পারে। বাছাই করে নির্দিষ্ট কোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনা বা মুছে দেয়া সম্ভব হলে এর অপব্যবহার অনিবার্য বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে এমন প্রযুক্তির প্রবক্তারা বলছেন, শুধু অ্যামেরিকায়ই ৫০ লাখ আলঝেইমারের রোগী আছেন। ইরাক ও আফগানিস্তানে মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন প্রায় ৩ লাখ সৈন্য। এদের জীবন বদলে দিতে পারে ‘মেমোরি স্টিমুলেটার’। অনেক সৈন্য মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে নিজের পরিবারের লোকজনকেও চিনতে পারছেন না। তাদের সেই হারানো স্মৃতি আবার জাগিয়ে তোলা যেতে পারে।
মস্তিষ্ক ও স্মৃতিভাণ্ডারের মতো জটিল কাঠামো নিয়ে কাজ যে অত্যন্ত কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হারানো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞরা তাই নানা পথের কথা বলছেন। প্রথম পথ হলো মস্তিষ্কের যে অংশে স্মৃতি ভরা থাকে, সেই ‘হিপোক্যাম্পাস’-এর মধ্যে প্রয়োজনীয় স্পন্দন সৃষ্টি করা।
তবে নির্দিষ্ট কোনো স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে হলে কোনো ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট ‘মেমোরি প্যাটার্ন’ জানা প্রয়োজন। দ্বিতীয় এবং আরো সহজ পথ হলো খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ না দিয়ে মস্তিষ্ককে আঘাত পাওয়ার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
মার্কিন সামরিক গবেষকরা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবেন, হলেও সে ক্ষেত্রে নৈতিকতা, আইন ও সামাজিক প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো কতটা গুরুত্ব পাবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।