১৫টি লঞ্চ সার্ভিসে দিয়েও ঢাকাগামী যাত্রীদের সামাল দেয়া যাচ্ছে না

শাহীন  হাফিজ ॥ ঈদের ছুটি শেষে ৪৮ ঘন্টার হরতালের বেড়াজালে কর্মস্থলে যোগদান করতে না পারা কর্মজীবী মানুষ ছুটছে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। নাড়ীর টানে যারা বাড়ি ফিরেছিলেন তারা ৪/৫ দিন পরই পুনরায় কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ছুটে থাকেন। কিন্তু এবার হরতালের তাদের যাত্রা বিলম্ব হওয়ায় চাপ পড়েছে বৃহস্পতিবার থেকে।

ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে দু’তিন দিন যারা বেশি ছুটি নিয়েছেন, তারাও এবার কর্মস্থলে ফিরতে বিপাকে পড়ে যান। মানুষদের অনেকেই আসার দিনক্ষণ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বৃহস্পতি ও শুক্রবারকে। এ দু’দিন দিনভর লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ধর্না দিয়েও অনেকেই টিকেটের যোগাড় করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার প্রবল বর্ষা থাকার কারনে লঞ্চে অধিক যাত্রী পরিবহন করা হয়নি। 

এ কারনে হাজার হাজার যাত্রীরা আটকা পড়েছে। ঈদ ও কোরবানীর মৌসুমে সকল রীতিনীতি উপেক্ষা করেই ছাদে যাত্রী পরিবহন করা হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার সে সুযোগ না থাকায় শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি শেষে কর্মস্থলগামী মানুষের সাথে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বরিশাল নৌ বন্দরে অবস্থান নেয় আটকে পড়া যাত্রীরা। লঞ্চগুলোতে জায়গা পেতে দুপুরের পরই টার্মিনাল হাজার হাজার যাত্রীর ঢল নামে। ঢাকা সদর ঘাটে যাত্রী নামিয়ে লঞ্চগুলো বরিশাল নৌবন্দরে নোঙ্গর করার সাথে সাথেই টার্মিনালে অপেক্ষারতরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার আগেই এখান থেকে ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে সম্রাট-২ নামের লঞ্চটি। এরপর একে একে সুন্দরবন ৭ ও ৮, সুরভী ৭ ও ৮, কীর্তনখোলা ১ ও ২, পারাবত ৯-১০-১১, টিপু-৭, কালামখান ও দ্বীপরাজ নির্ধারিত সময়ের এক থেকে দেড় ঘন্টা আগেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

ঝালকাঠী থেকে টিপু ও সুন্দরবন কোম্পানীর যে লঞ্চগুলো বরিশাল ঘাটে যাত্রী পরিবহন করতে নোঙ্গর করেছিলো তাতেও তিল ধরণের ঠাঁই ছিলনা। লঞ্চ মালিক ও ঘাট শ্রমিকরা জানিয়েছেন ঈদের পর সবচেয়ে যাত্রীদের ভীড় ছিলো শুক্রবার। তারা জানান, বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারনে অনেক যাত্রী আটকা পড়ায় শুক্রবার ১৫টি লঞ্চ সার্ভিসে দিয়েও যাত্রীদের ভীড় সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে মানুষ লঞ্চের মুল সিড়ির পরিবর্তে বিভিন্ন ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠে কোনো রকম দাঁড়িয়ে বা বসে জায়গা করে নিচ্ছেন। পন্টুনে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিলো চরম। লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে যাওয়ায় অনেকেই শেষ দিনেও কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যেতে পারেননি। টার্মিনালে অপেক্ষমান হাজার হাজার যাত্রীদের ভীড় সামাল দিতে র‌্যাব – পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। নৌবন্দর সংলগ্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করেও যাত্রী দুর্ভোগ কমানো যাচ্ছে না।