+২৪৩৮৯৬২৩৪০০৪ নম্বর থেকে সাবধান !!

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা +২৪৩৮৯৬২৩৪০০৪ নম্বর থেকে সাবধান থাকুন। অচেনা বিদেশি নম্বর থেকে ফোন আসে একটি গ্রামীণফোন নম্বরে। ফোন রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। কয়েক সেকেন্ড পার হবার পর ফোন কলটি কেটে যায়। +২৪৩৮৯৬২৩৪০০৪, +২৪৩৮৯৬২৩৪০০৯ একই ভাবে +২৪৩৮৯৬২৩৪০০৫ নম্বর থেকে ফোন আসে এক সংবাদকর্মীর গ্রামীণফোন নম্বরে।

এর আগে +২৪৩৮৯৬২৩৪০০৯ নম্বর থেকে এক সংবাদকর্মীর গ্রামীণফোন নম্বরে আরেকটি ফোন আসে। ফোন কলটি ধরার আগেই তা মিসড কল হয়ে যায়।

পরর্বতী সময়ে এই ফোন নম্বরগুলোর খোঁজ নিতেই জানা গেছে প্রতারণার ভয়ংকর কিছু তথ্য। বিদেশি কিছু চক্র এই সব ফোনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের টাকা। এই ফোনগুলো ব্যবহার হয় কেবল টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার জন্য।

অদ্ভুত এ নম্বর থেকে ফোন আসার পর যদি আপনি তাতে ফিরতি ফোন করেন তাহলেই সাথে সাথে আপনার মোবাইল থেকে ব্যালেন্স কেটে নেয়া হবে। আপনার মোবাইল ফোনের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা চলে যাবে ওই জালিয়াত চক্রের কাছে অনায়াসেই।

এই চক্রগুলো টাকা হাতিয়ে নিতে সহজ কিছু কৌশল ব্যবহার করে ফোন করতে উদ্বুদ্ধ করে। যেমন এই নম্বার থেকে ফোন আসার পর যদি ফোনটি আপনি রিসিভ করতে না পারেন তাহলে স্বভাবতই তা মিসড কল তালিকায় উঠবে। পরে কৌতূহলে আপনি স্বাভাবিকভাবেই ফোন করবেন সেই নম্বরে। আর এতে করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই উধাও হয়ে যাবে আপনার মোবাইল সবটুকু ব্যালেন্স।

আর ফোন রিসিভ করে যদি কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়া যায়, কৌতূহল বশত ওই নম্বরে ফোন করবেন। তাতেও একইভাবে টাকা চলে যাবে এবং তা ট্রান্সফার হবে ওই চক্রটির অ্যাকাউন্টে। এছাড়াও বিভিন্ন তরুণ-তরুণীর ছবি ব্যবহার করে এই ধরনের স্ক্যামিং কলের ফাঁদ পাতা হয়।

+২৪৩ কোডের নম্বর দিয়ে আসা ফোন নম্বরটির খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, এটি মূলত কঙ্গোর জাইরি’র একটি কোড নম্বর। সেখান থেকেই আসে এই ফোন কলটি। এই কলকে ‘স্ক্যামিং কল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইন্টারনেট দুনিয়াও এ ধরনের আরো স্ক্যামিং পদ্ধতি ছড়িয়ে রয়েছে।

বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রে এ ধরনের ফোন স্ক্যামিং বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। সে দেশে +২৪৩ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর থেকে কল আসছে গ্রাহকদের কাছে। তারপর গ্রাহকরা সে সব নম্বরে কল ব্যাক করার পরই টের পাচ্ছেন যে, অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে গেছে!

এ ধরনের ফোন কল এখন বাংলাদেশেও নিয়মিত আসছে। আর বিষয়টি বেশির ভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের অজানা থাকায় তারা ভুল করেই ফাঁদে পা দিয়ে হারাচ্ছেন মোবাইলের সব টাকা।