১৭ ফেব্রুয়ারি কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন

ভালো থাকা মানে, বরিশালে থাকা। জীবনবোধের কবি জীবনানন্দ দাশ এই বরিশালেই ১৮৯৯ সনের ১৭ ফেব্রুয়ারি জীবনানন্দ দাশ তার মায়ের কোল আলো করে এ পৃথিবীতে প্রথম চিকৎকার দিয়ে জানিয়েছিলেন আমি এসে গেছি মা। মা কুসুম কুমারীও বরিশালবাসীকে জানিয়েছিলেন জীবনানন্দ এসেছে। কিন্তু আমরা বরিশালবাসী বা বাঙলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী সে কথা সেদিন কানে তুলিনি। ১৯৫৪ সনে পৃথিবীর সাথে যখন সব লেনদেন শেষ করে চিরদিনের জন্য গভীর নিদ্রায় মগ্ন হলেন কবি তখন আমরা খুঁজতে থাকি অমর কাব্যগ্রন্থ। আমাদের মনোবেদনা তখন হাহাকারে রূপ নেয়। অনুভবের দায়বোধে তাঁর ধূলিময় পান্ডুলিপি খুঁজে খুঁজে এক একটি জাগতিক চেতনা প্রকাশ্যে এনে পাঠককে তার রস আস্বাদনের ব্যবস্থায় একধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা করেন কেউ কেউ।

১৯১৯ সালে ‘বর্ষা আহবান’ নামে একটি কবিতা ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা। তখন তিনি শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে লিখতেন। আজ শতবর্ষ পরে ২০১৯ সালে তাঁর একটি মুদ্রণের জন্য আমাদের যে ব্যাকুলতা তা কি তিনি অনুভব করে গেছেন তাঁর জীবদ্দশায় ? হয়তো এর সবটাই তিনি তাঁর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বুঝে নিয়েছিলেন, কবিতায় তাঁর নিমগ্নতা, প্রকাশ্যে নিজেকে নিয়ে না আসার প্রবণতা আমাদের বুঝতে আরও সাহায্য করেছিল।

আগামীকাল ১৭ই ফেব্রুয়ারি শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাশগুপ্ত (মিলু) এর শুভ জন্মদিন। আনন্দময় এ দিনটিকে পালন উপলক্ষে জাতীয় কবিতা পরিষদ, বরিশাল শাখা সকাল ৮:৩০টায় বগুড়া রোডস্থ কবি জীবনানন্দ অঙ্গণে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন, কবির সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।

অপূর্ব গৌতম
সম্পাদক
মালবিকা
(সাহিত্যের ভাঁজপত্র)