আবে হায়াত–বৃষ্টিভেজা আকুলতা

মাসুদ আমিন ।।
আজ অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজলাম জানাজা পরতে গিয়ে। স্বেচ্ছায় নয়, অনিচ্ছায় । আমি চাইছিলাম না বৃষ্টি আমাকে ভিজিয়ে দিক, আমি বৃষ্টির ফোটায় সিক্ত হই, তারপরও ভিজলাম ।  খুব মনে পরছিল ওর কথা, এক সাথে ভিজলে কি মজাই না হতো। সেই উপায় কি আছে ? ওর বৃষ্টিতে ভিজতে মানা, ঠান্ডা লেগে যায় যদি। তারপরও আমি ওকে অনুরোধ করতাম। ও রেগে যেতো।  বলতো, রেগে যাচ্ছি কিন্তু আমি ।  একটু ভিজলে কি হয়, এভাবে আমার অনুরোধ, হাজারো মিনতিতে শেষ পর্যন্ত ভিজতে রাজি হতো,  কিন্তু তখন বৃষ্টির ধারা কমে আসতো । মাঝে মাঝে রাগ হতো ওর উপর, কিন্তু ডাক্তারের নিষেধের কথা মনে পরলে  আমার রাগ পানি হয়ে যেতো। একবার রিক্সায় করে ঘোরার সময়  মনের সাধ মিটিয়ে ভিজেছিলাম বৃষ্টিতে । আরো ভালো করে বৃষ্টিতে ভিজতে রিক্সা থেকে নেমে পরলাম ওকে নিয়ে । বৃষ্টিতে ভেজা তো হলোই,  কাদাও  মাখা হলো দ্রুত বেগের একটা গাড়ি পাশ কাটিয়ে যাবার সময়। কাদায় মাখামাখি হলাম আমরা দু’জন । সবচেয়ে আনন্দ হয়েছিলো কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ঝড় বাদলের সন্ধ্যায়। দু’জনে হাত ধরাধরি করে ভিজলাম অঝোর ধারার বর্ষনে। একদিকে সাগরের ফুসে ওঠা  উন্মাতাল গর্জন, অন্যদিকে বর্ষার বড় বড় গোলা বর্ষন। কি সব দিন ছিলো তখন।  বৃষ্টিকে আমি  এতো ভালবাসি, তবুও সেদিনের পর কেন জানি ওকে নিয়ে মন ভরে একসাথে বৃষ্টিতে ভেজা হয়নি কখনো । সেদিনের কথা আমার এখনও পষ্ট মনে আছে। কোনো একটা কিছু ক্রয়ের কথা চলছিলো তখন। রান্না ঘরে কথা প্রসঙ্গে তাকে বলেছিলুম ব্যাপারটায় কিন্তু অনেক ঝক্কিঝামেলা আছে, মামলা নোটিশ  খাওয়ার ভয়ও আছে । শুনে সে ভয়ে চক্কর দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের উপর ঘুরে পরে গেলো। তাই নিয়ে কতো দৌড়ঝাপ, কতো চিকিৎসা। শেষ পর্যন্ত তকিবউদ্দীন স্যার বলে দিলেন ঠান্ডা লাগানো যাবেনা ও আরো অনেক কিছু। মাঝে মাঝে ছেলেমেয়েকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজি এখনও, কিন্তু বিশ্বাস করো প্রিয়তমা, তুমি পাশে না থাকলে বৃষ্টিতে ভেজা অর্থহীন ।