ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত বেড়েই চলছে \ সশস্ত্র হামলা, প্রাণনাশের হুমকি, প্রচার-প্রচারনায় থাকা নারী কর্মীদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ প্রার্থীদের

বরিশাল জেলার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সহিংসতা ততই বাড়ছে। একাধিক ইউপি’র নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ মেম্বর প্রার্থীদের সাথে জোট বেঁধে একত্রে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা চালানোর ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বরপ্রার্থীগণ মিলে লাখ লাখ টাকা নির্বাচনী মাঠে ছড়িয়ে দেয়ার ফলে দফায় দফায় সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষে সশস্ত্র হামলায় প্রার্থীদের কর্মীরা গুরুতর আহত হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভ‚গছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সহ সংশ্লিস্ট আইন-শৃংখলা বাহিনীর কাছে একাধিক অভিযোগ করলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেকেই। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন নির্বাচনী মাঠে টাকা ছড়ানোর বিষয়ে স্পষ্ট প্রমান পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বরিশাল সদর উপজেলার ২নং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর আনারস প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, তার নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেয়া নারীদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কামাল হোসেন লিটন মোল্লার ভাই কালাম মোল্লা ও তার লোকজন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কাশিপুর এলাকায় এ ঘটনার পর তিনি বিষয়টি থানা পুলিশ ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এয়ারপোর্ট থানার এসআই রাজিব জানিয়েছেন তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নুরুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন তার বাড়ির সামনে বহিরাগত লোকজন ও মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের পাঠিয়ে পাহারা বসানো হয়েছে এবং তাকে সহ কর্মীদের নির্বাচনী মাঠ ত্যাগ করতে প্রাননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে বরিশাল পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন। সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান প্রার্থীর উপর হামলা অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সহ ৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার রাতে ঐ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের খয়েরদি গ্রামে এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ খান আজাদী, তার কর্মী সাইদুল ইসলাম, রাকিব মাহামুদ, সজল তালুকদার এবং শরীয়তুল্লাহ আহত হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ খান আজাদী বলেন, জাগুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের খয়েরদি গ্রামে গনসংযোগ শেষে ফেরার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিদারুল আলম শাহীন ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল যোগে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় তাদের সাথে হকিস্টিক, লাঠি, ছুড়ি, রাম দা এবং ক্রিকেট স্ট্যাম্প ছিলো। আমার কর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। আহতদের মধ্যে কর্মী সাইদুল ইসলামের অবস্থা গুরুত্বর। তার মাথায়, বুকে ও শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়াও তার সহোদর শরীয়তুল্লাহ, চাচাতো ভাই রাকিব মাহামুদ ও চাচা সজল তালুকদারকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি জানান, পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এই বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিদারুল আলম শাহীনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। কোতয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, মোট ৫০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৬০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ১৬শ’ ২৩ জন মেম্বর প্রার্থী এবং সংরক্ষিত ৫১৫ জন মেম্বর প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। মোট ৯ লাখ ১৮ হাজার ৭৬৩ জন ভোটর ৪৭০টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যে কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানিয়েছেন, ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যা যা করনীয় তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যে সকল অভিযোগ আসছে সেগুলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে সেগুলোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।