ইনফ্রা পলিটেকনিকে’র পরিচালক আমীর হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ

ইনফ্রা পলিটেকনিকে’র পরিচালক আমীর হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতার ফলে ক্ষোভে ফুসে উঠেছেন বরিশাল ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ইনফ্রা পলিটেকনিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারি কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দরা গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রেরণ ও সাংবাদিকদের কাছে পরিচালক আমীর হোসেনের নানান স্বেচ্ছাচারিতার তথ্য তুলে ধরেন। কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দরা দাবী করেন বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বরিশালের কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমে ইনফ্রা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারি কল্যাণ সমিতি নিয়ে প্রকাশিত খবর আমাদের কাছে উদ্দেশ্যে প্রনোদিত মনে হয়েছে। ঐ সংবাদে আমাদের সংগঠন নিয়ে গণমাধ্যম কর্মী ভাইদের কাছে অসত্য তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বরিশাল তথা বাংলাদেশের একটি সুনামধন্য বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। যেখানে আমরা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিগন নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে গর্বিত। আমারা আমাদের সকলের নিজস্ব স্বার্থ সংরক্ষণ, সদস্যদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা, প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে আমাদের অভিজ্ঞতা ও অভিমত পরিচালনা পর্ষদে’র কাছে উপস্থাপন এগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে আইনি কাঠামোর মধ্যে এবং লেবার ল’ অনুসরণ করে সবাই ঐক্যবধ্য হয়ে এই সমিতি গঠন করি। আমরা দ্যার্থহীন ভাবে বলতে চাই কোভিড-১৯ মহামারি চলমান রয়েছে, লকডাউনের মধ্যে দুজন পরিচালকের মধ্যে একজন প্রকৌশলী মো. আমীর হোসাইন’র জন্য ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা থাকা সত্ত্বেও আমরা বেতনের মাত্র ২০% নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছি কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সাথেই ছিলাম। আমরা বারবার পরিচালনা পর্ষদ’র সাথে বসে আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলেছি কিন্তু একজন পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা ও উগ্রতার কারনে আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে আমরা বঞ্চিত রয়েছি। তার দরুন আমরা একত্রিত হয়ে আমাদের এই সমিতি গঠন করা। আমাদের অভিযান অনুষ্ঠানটি পরিচালক আমীর হোসেনের ইন্ধনে একটি কুচক্রী মহল রং লাগিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন ও প্রচার করেছে। এ বিষয়ে ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষ এম এম রহিম কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের নব গঠিত নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন। একাধিক শিক্ষক সহ কর্মকর্তারা দাবী করেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ইনফ্রা পলিটেকনিক এর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলেই প্রমান হবে কি পরিমান অনিয়ম-দুর্নীতি করে পরিচালক লাভবান হয়ে তাদের সাথে প্রতারনা করছে। তারা বলেন সটিক ভাবে আর্থিক বিষয়গুলো তদন্ত করলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে সকলের সামনে। কেননা তাদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে উল্টো গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের হেয় করা হচ্ছে যাতে তারা ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই এ বিষয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন গণমাধ্যমের মাধ্যমে।
ইনফ্রা পলিটেকনিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারি কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দরা দাবী করেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক গৃহিত চাকরি বিধিমালা- ২০১৬ বাস্তবায়ন না করা, শিক্ষদের সময়মত পদোন্নতি না দেয়া, ইনক্রিমেন্ট প্রদান না করা, বিধান অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি না করা, সময় মত বেতন না দেয়া, একজন পরিচালক কর্তৃক বিভিন্ন সময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ আমাদের একত্রিত হয়ে সমিতি গঠনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
এ ব্যাপারে পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীরা অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং আমাকে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরানোর জন্য সকলে মিলে একত্রে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচার দাবী করছি।