ঈদের পর সর্বোচ্চ যাত্রীদের চাপ ঢাকাগামী নৌযানগুলোতে

শাহীন হাফিজ ॥ প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে কর্মস্থলগামী মানুষ চরম দুর্ভোগে যাত্রী হয়েছেন নৌযানে। বৃহস্পতিবার বরিশাল নৌবন্দর থেকে ১১টি লঞ্চ ছেড়ে গেলেও প্রত্যেকটি লঞ্চে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা রওয়ানা হয়েছেন। ঈদের ছুটি শেষে ৪৮ ঘন্টার হরতালের বেড়াজালে কর্মস্থলে যোগদান করতে না পারা কর্মজীবী মানুষ ছুটছে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। নাড়ীর টানে যারা বাড়ি ফিরেছিলেন তারা ৪/৫ দিন পরই পুনরায় কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ছুটে থাকেন। কিন্তু এবার হরতালের তাদের যাত্রা বিলম্ব হওয়ায় চাপ পড়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে। ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে দু’তিন দিন যারা বেশি ছুটি নিয়েছেন, তারাও এবার কর্মস্থলে ফিরতে বিপাকে পড়ে যান। মানুষদের অনেকেই আসার দিনক্ষণ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বৃহস্পতিবারকে।

দিনভর লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ধর্না দিয়েও অনেকেই টিকেটের যোগাড় করতে পারেননি। বরং লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিতে দেখা গেছে শুক্রবার দিন যাত্রা করার জন্য। আজ দুপুর থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে স্মরণকালের সর্বোচ যাত্রীর ঢল নেমেছে বরিশাল নৌ-বন্দরে। একই সাথে দুপুরের পর প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নগরীর সড়ক-মহাসড়কে হাটু সমান পানি জমেছে। নারী ও শিশুদের নিয়ে ঢাকাগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

বরিশাল নৌবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। ঢাকাগামী হাজারো মানুষের ভীড় সামাল দিতে পারছে না বেসরকারী কোম্পানীর লঞ্চগুলো। ঢাকাগামী লঞ্চের একটি টিকেট এখন সোনার হরিন। বৃহস্পতিবার সুরভী-৭ ও ৮, সুন্দরবন-৭ ও ৮, পারাবত-৯ ও ১১, কীর্তনখোলা- ১ ও ২, এমভি টিপু, দ্বীপরাজ, সম্রাট কোম্পানির একটি করে লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে এখানকার নৌবন্দর ত্যাগ করেছে। এসব লঞ্চে তিল ধরণের ঠাঁই ছিলো না।

ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে মোট ১১টি লঞ্চ।   মানুষ এসব লঞ্চে স্থান না পেয়ে ছাদে, ডেকে ও নীচ তলার দু’পাশে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ছুটছে। ঈদের পরে গতকাল সর্বোচ্চ ভীড় ছিলো ঢাকাগামী নৌযানগুলোতে। বৈরী আবহাওয়া ও নৌযান সংকটের কারনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এসব যাত্রীদের।