উপকূলে ৭নং সতর্ক সংকেত ॥ মধ্য রাতে উপকূলে আঘাত হানছে মহাসেন

রাসেল শিকদার ॥ দক্ষিন- পূর্ব বঙ্গোবসাগরে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড় মহাসেন উপকুলের দিকে ধেয়ে আসছে। উপকূল ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৭ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। জেলাগুলোতে প্রশাসক তার অফিসে নিয়ন্ত্রন কক্ষ খুলেছেন। জরুরী আবস্থা মোকাবেলর জন্য সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছেন। ঘূর্নিঝর মহাসেন সমুদ্র উপকুলীয় অঞ্চল অতিক্রম করার কারনে বুধবার অভ্যন্তরীন সকল রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আজ দুপুর  ২ টার পর দুপুর থেকে বরিশালের আভ্যন্তরিন ১৩টি রুটের প্রায় অর্ধশত লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। একইভাবে সন্ধ্যার পর বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার জন্য মালিক পক্ষকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। দুপুরে বি.আই.ডব্লিউটিএর রিাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা বিভাগ থেকে এ নোটিশ দেয়া হয়। যে কোন দূর্ঘটনা এড়াতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা।

উপকূলের দিকে ঘূর্নিঝড় “ মহাসেন”  এগিয়ে আসার কারনে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বুধবারের দুপুরের পর থেকে হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে। বার বার সর্তক বানীতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। সকল প্রকার নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপকূলবাসীর  আতংক কাটাতে এবং দুর্যোগ মোকাবেলা করতে জেলা প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করেছে। দু’দিন আগেই সকল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বুধবার সর্বশেষ বৈঠকে জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম জানান, ২৯৯টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ২০ হাজার ৩৭৭টি স্কুল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডাক্তারদের নিয়ে ১৩৫টি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সরকারী-বেসরকারী ও এনজিও’র ৭ থেকে ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। দুর্গম এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদে রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।  

উপকূলীয় এলাকার জনগণকে আতংকিত না হয়ে আশ্বস্ত হওয়ার জন্য সতর্ক সংকেত সম্পর্কে বলা হয় ৮নং সতর্ক সংকেতের পূর্বে কারো বাড়ি-ঘর ছেড়ে সাইক্লোন শেল্টারে বা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার দরকার নেই। এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক জানান জেলায় ২শ’ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা রয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আবু ইউসুফ, এডিসি শিক্ষা ওয়াহিদুজ্জামান, ত্রাণ বিভাগের চিত্তরঞ্জন অধিকারী সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।