একান্ত সাক্ষাৎকারে ওসি আওলাদ পূজার আনন্দ নিশ্চিত করতে সতর্ক পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মহানগরীর চার থানার মধ্যে সর্বোচ্চ পূজা হচ্ছে কোতয়ালী থানা এলাকায়। নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত সদর রোড, পদ্মাবতী, চক বাজার , বাজার রোড ও হাসপাতাল রোড এলাকার বেশ কয়েকটি পুরানো ঐতিহ্যবাহী মন্ডপে এখন চলছে শারদীয় উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি। সনাতন ধর্মাবলম্বনকারীদের এ উৎসব নিরাপদ পরিবেশে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্তক দৃষ্টি রাখছেন কোতয়ালী থানার চৌকশ অফিসারগণ। ইতিপূর্বে শারদীয় পূজার সময় চার্চ ওয়ার্ডের মন্দিরের জমি রাতের অন্ধকারে যুবদল নেতার দখলে নেওয়া ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাদা মনের মানুষ বিজয় কৃষ্ণ দে’র হাসপাতাল রোডের বাড়িতে পূজা মন্ডপে মদ্যপ ছাত্রলীগ নেতার হামলাসহ অতীতের সকল অপ্রীতিকর ঘটনার রেকর্ড আমলে রেখেই নতুন আশংকা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গতকাল  বুধবার দৈনিক দখিনের মুখ পত্রিকার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে  কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন -চার্জ (ওসি)  শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুন বলেন,
তার  থানা এলাকায় প্রতিমা তৈরি, পূজা উদযাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনসহ দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন পুলিশ কমিশনার মহোদয় ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তাকে ঢেলে সাজিয়েছেন। আড়ম্ভরপূর্ণ পূজা সম্পন্ন করতে থানা পুলিশের বাইরেও আমাদের অপর ইউনিট গুলো মাঠে রয়েছে।  মহানগরীর চার থানার মধ্যে যেহেতু আমার থানা (কোতয়ালী) এলাকায় সবচেয়ে বেশী ৩৪টি মন্ডপে পূজা উদযাপন হবে সেহেতু আমাদের একটু বেশীই সর্তক থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বৃহত্তম এ উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোন মহল বা গোষ্টি  আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক রাখা হচ্ছে। থানার চৌকশ ও দক্ষ এসআইদের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে। ওসি আওলাদ হোসেন মামুন বলেন, ৩৪টি মন্ডপের মধ্যে ৫টি মন্ডপকে আমরা অতি গুরুত্বপূর্ণ ,১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ২২ টি মন্ডপে অতিরিক্ত নিরাপত্তা থাকবে। অপর ১২টি মন্ডপে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হবে। সে দিকেই সর্তক দৃষ্টি থাকবে কোতয়ালী পুলিশের কর্মকর্তাদের। তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনার মহোদয় যে ভাবে পূজা মন্ডপ গুলোতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন ঠিক সেই ভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা মন্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হচ্ছে। তারা অবস্থা বুঝে যখন যে ভাবে পদক্ষেপ নিতে বলছেন সে ভাবেই সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পূজার শুরুতে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় রয়েছে কোতয়ালী পুলিশ।
ওসি আওলাদ হোসেন বলেন, কোতয়ালী মডেল থানার প্রতিটি সদস্যকে পেশাদারিত্বের সাথে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু শারদীয় দুর্গা উৎসব নয়। যে কোন সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আহবান জানিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন ‘ আমি থানার ওসি হিসাবে যেমন বিপদগ্রস্ত মানুষের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শুনি এবং আইনগত সহযোগিতা প্রদানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি ঠিক তেমনি এ থানায় কর্মরত আমার সহকর্মীদের তেমন ভাবেই কাজ করার পরামর্শ দেই। ‘পুলিশ ফোর্স নয়, জনগণের সেবক’ এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে কাজ করলেই খুব সহজে মানুষের মন জয় করা সম্ভব। ওসি আওলাদ হোসেন বলেন-খুলনা, রাজবাড়ীসহ পুরানো কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চেষ্টা করছি কমিউনিটি পুলিশকে আরো সক্রিয় করে গড়ে তুলতে। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ শ্লোগান নিয়ে কমিউনিটি পুলিশ আরো সক্রিয় হলে অপরাধ অনেক কমে আসবে।

প্রসঙ্গত: গত ১১ জুন কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) পদে যোগদান করেন চৌকশ পুলিশ ইন্সপেক্টর শাহ মো: আওলাদ হোসেন মামুন। নিজের যোগ্যতা ও অনন্য কর্মক্ষমতার কারণে তিনি কোতয়ালী মডেল থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছেন। চুরি -ছিনতাই কমেছে সন্তোষজনক হারে। বিশেষ করে বিগত কোরবানীর ঈদে ছিনতাইকারীদের নিয়ে তেমন কোন টেনশনে ছিলেন না নগরবাসী। ওসি আওলাদ হোসেন যোগদানের পর কোতয়ালী মডেল থানার পরিবেশ বদলে গেছে। আগের মত নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে মারধর ও মুক্তিপণের মত ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে হয় না। পুলিশের ভাষায় যেটাকে সামারী বলেন সেই কাজের পটু কয়েক জন সাব-ইন্সপেক্টরকে এ থানা থেকে পুলিশ কমিশনার প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এ সফলতা আসছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে একই এলাকায় ১৫/১৬ বছর কর্মরত থাকা ও একই থানায় কনস্টেবল, এএসআই এবং এসআই হিসাবে কর্মরত থাকা পুলিশ সদস্যরাই নগরবাসীকে নানান উপায় হয়রানী করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো। আর বদনাম নিতে হতো পুরো বিএমপিকে।