করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরীর শেষ পর্যায়ে বরিশাল শেবাচিম থেকে মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রারকে ভোলায় বদলী

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরীর শেষ পর্যায়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রারকে বদলী করা হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় শেবাচিম হাসপাতাল থেকে তাকে ভোলা জেলা হাসপাতালে বদলী করে মঙ্গলবার পূর্বাহ্নের মধ্যে যোগদানের আদেশ দেন। এতে করে শেষ পর্যায়ে মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডাঃ এইচ,এম মাসুম বিল্লাহ’র করোনা প্রতিরোধী ডিভাইস ডিভাইস তৈরীর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ইতিমধ্যেই ঐ ডিভাইস তৈরীর জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের অনুমতি মেলার পর তাদের চিঠির অনুকুলে ৫০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইথিক্যাল এপ্রোভাল শেষ হলে ডিভাইস তৈরী কার্যক্রম শুরু হবার কথা ছিলো। কিন্তু আকস্মিক তার এ বদলীর আদেশে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রারকে ডাঃ এইচ,এম মাসুম বিল্লাহ এ গবেষনা কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই মেডিকেল কলেজ থেকে কীট সংকট দেখিয়ে তাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একান্ত সহযোগিতায় তার কাজ প্রায় সমাপ্তের পথে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারো রোষানলে পড়ে মাসুম বিল্লাহকে বদলী করা হতে পারে। কেননা গবেষনা করা এ রেজিস্ট্রারকে এ সময়ে বদলীর বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। তাছাড়া তার গবেষনার কথা চিন্তা করে এ ধরনের আদেশে হাসপাতালের সকলেই হতবাক হয়েছেন। তার বদলীর আদেশে এ ডিভাইস তৈরীর কার্যক্রম থমকে যাবে। কেননা এ ধরনের গবেষনা সফল করতে এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের যে ধরনের হাসপাতাল ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন তা ভোলাতে নেই।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন জানান, ডাঃ এইচ,এম মাসুম বিল্লাহ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরীর কথা জানালে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়। এ ডিভাইস কার্যক্রম সফল ভাবে সমাপ্ত হলে জনসাধারণের জন্য সুফল বয়ে আনবে। পাশাপাশি ডিভাইস তৈরীতে কর্মক্ষেত্র তৈরী হবে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডাঃ এইচ,এম মাসুম বিল্লাহ জানান, করোনা ভাইরাস শুরুর পর থেকেই রোষ্টারের ভিত্তিতে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি একটি ডিভাইস তৈরীর কার্যক্রম হাতে নেন। এ ডিভাইস ব্যবহারে করোনা আক্রান্ত রোগীর নিশ^াসে নির্গত করোনা ভাইরাস, জীবানুমুক্ত হয়ে যাবে। এ গবেষনার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্ধারিত করা হয়েছে। এ হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনা গবেষনার জন্য অত্যান্ত উপযোগী। ইতিমধ্যেই ডিভাইসের নকশা বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষনা পরিষদে প্রেরণ করে তাদের চিঠির অনুকুলে ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, তার বদলীতে গবেষনা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তিনি বিষয়টি লিখিত ভাবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর বদলী প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন প্রক্রিয়াধীন।

শাহীন হাফিজ
ব্যুরো প্রধান, দৈনিক ইত্তেফাক
বরিশাল অফিস