জনস্থানে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে বরিশালে ইয়ুথনেটের এফজিডি সভা

নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানী রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বরিশালে পাবলিক প্লেসে নারীদের নিরাপত্তা শীর্ষক ফোকাস গ্রæপ ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সি. আর. আই) উদ্যোগে এবং ইউএনডিপি’র হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রাম-এর সহযোগিতায় বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উক্ত ডিসকাশনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এস এম রাহাতুল ইসলাম, জাবেদ হোসেন চৌধূরী, মো. মুশফিকুর রহিম, রায়া ত্রিপুরা, মো. আব্দুল হাই প্রমুখ। আলোচনার শুরুতে, প্রতিকী যুব সংসদের চেয়ারপার্সন মো. আমিনুল ইসলাম উক্ত প্রকল্পের বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এরপর প্রধান অতিথির মডারেশনে ফোকাস গ্রæপ ডিসকাশন আরম্ভ হয়।
সম্প্রতি জনস্থানে নারীর নিরাপত্তা শীর্ষক একটি ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বরিশালে ২০১৮ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী সংগঠন ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ক্যাম্পেইনটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। আলোচনায় শুরু করা হয় কিছু প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে। পাবলিক প্লেস বলতে আমরা কি বুঝি? মেয়েরা কি ধরনের সহিংসতার শিকার হয়? নারীরা পাবলিক প্লেসে গেলে আমরা কি মনে করি? নারী নিযাতন র্প্রতিরোধে আমাদের কি ধরনের ব্যবস্থা আছে ? নারীরা পাবলিক প্লেসে কেমন বোধ করে? আমাদের দেশে নারী সহিংসতার প্রবনতা দিন দিন বড়ছে কেন ? আমরা কি ভাবে নারীর প্রতি হওয়া এই সহিংসতাকে প্রতিরোধ করতে পারি? বাজার, শপিং মল, বাস স্ট্যান্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক টয়লেটকে পাবলিক প্লেস বলে সকলে উল্লেখ করেন। রায়া ত্রিপুরা কয়েক বছর আগের পহেলা বৈশাখে ঘটে যাওয়া পাবলিক প্লেসের আলোচিত যৌন হয়রানির ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি, বাসে ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েদের সাথে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসেঃ আমরা আমাদের সমাজের সব বয়সের মেয়েদের ব্যাপারে অনেক বেশি বিচারধমি। সকলে ধরে নেয় মেয়েদের কাজই হলো ঘরকন্যার কাজ করা, বাইরে কাজ করা মেয়েদের সমাজ সাধারন ভাবে নিতে পারে না। আমরা অবলিলায় পাবলিক প্লেসে মেয়েদের কটুক্ত করতেও দ্বিধা বোধ করি না। জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ নারী নিযাতন প্রতিরোধে বিশেষ হেল্পলাইনের কথা তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও নারীদের সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তড়িৎ অভিযোগদানের ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। তবে, বরিশাল শহরে নারী ও শিশুবান্ধব কোর্টরুমের অপ্রতুলতার কথা তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়, খুব শিঘ্রই নারীবান্ধব কোর্টরুম তৈরীর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমাদের দেশে নারীরা দিনের বেলায় পাবলিক প্লেসে একা থাকতে খানিকটা স্বাচ্ছন্দ বোধ করলেও রাতের বেলায় একা পাবলিক প্লেসে থাকতে নূন্যতম নিরাপদ বোধও করে না। পৃথিবীর কোন দেশেই নারীরা শতভাগ সুরক্ষিত নয় তবে আমাদের দেশে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। মানবিক মূল্যবোধের অভাবের কারনেই আমাদের দেশে নারীদের প্রতি সহিংসতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে হাজারো আইন থাকলেও, সেই আইন সম্পর্কে তৃণমূলে মানুষ খুব বেশি অবগত নয়। ছোটবেলা থেকে মেয়েরা আবদ্ধ ভাবে বেড়ে ওঠে, যা আমাদের মেয়েদের ভিকটিম হওয়ার পথকে প্রসস্ত করে। একদমই ছোট বেলা থেকে ছেলে-মেয়ে উভয়কে জেন্ডার ইকুয়ালিটির শিক্ষা দিতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকেই কোএডুকেশন নিশ্চিত করতে হবে। মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই অনেক আনরিপোর্টেড এবিউজের শিকার হয়, মেয়েরা কোন সহিংসতার স্বিকার হলেই সাথে সাথে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সকলকে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।