জন্ডিস

ডাঃ মোঃ আল- আমিন ।।
জন্ডিস কোনো রোগ নয়, এটি হলো রোগের উপসর্গ। যেসব রোগে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেসব রোগে জন্ডিস দেখা দেয়। যেমন  হেপাটাইটিস ভাইরাসের আক্রমণ, মদ, অতিরিক্ত প্যারাসিটামল বা বিষাক্ত মাশরুম খাওয়া , শরীরের রোগ প্রতিরোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষগুলো অতি সক্রিয় হয়ে গিয়ে লিভারকে আক্রমণ অথবা জন্মগত ত্রুটির কারণে লিভারের সঙ্গে অন্ত্রের সংযোগ স্থলে কোনোপ্রকার বাধা। এছাড়াও যদি কোনো কারণে শরীরের লোহিত রক্তকনিকা অতিরিক্ত ভাঙতে থাকে তাহলেও জন্ডিস দেখা দেয়। এগুলো ছাড়াও ক্যান্সার,পিত্তে সমস্যা ইত্যাদি কারনেও জন্ডিস দেখা দেয়।
জন্ডিসের লক্ষণ –
হালকা জ্বর, দুর্বলতা, হলুদাভ ত্বক নখ, ও চোখ, অরুচি, বমি বমি ভাব  বা বমি হওয়া, মাংসপেশী বা জয়েন্টে ব্যথা, কালচে মুত্র, কাদার মতো মল ও চুলকানি।
জন্ডিসের চিকিৎসা –
১. জন্ডিস নির্মূলের জন্য ওষুধের প্রয়োজন না থাকলেও ডাক্তার আপনাকে জন্ডিসের অন্যান্য উপসর্গ যেমন বমি ভাব, চুলকানি ইত্যাদি কমানোর ওষুধ দিয়ে থাকেন, আপনার কষ্ট লাঘব করার জন্য।
২. যদিও জন্ডিস বলতে সাধারণ অর্থে ভাইরাল হেপাটাইটিস বোঝানো হয় কিন্তু প্রথমেই তো বলা হয়েছে যে অন্যান্য অনেক কারণে জন্ডিস হতে পারে। সেসব কারণের জন্য কিন্তু ওষুধ খেতে হবে যা একমাত্র ডাক্তারই পারে নিশ্চিত করতে।
৩. জন্ডিস হলে অতিরিক্ত নয়, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করুন। দিনে তিন লিটার বা ১২ গ্লাস এর মত পানি খেতে চেষ্টা করুন।
৪.জন্ডিস হলে তেল কম খাবেন। জন্ডিসে যেহেতু লিভার নাজুক অবস্থায় থাকে তাই একে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার জন্য তেল এড়িয়ে চলতে বলা হয়।
৫. জন্ডিস হলে অনেকে এসময় মাছ-মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকে যা একেবারেই অনুচিত। এতে শরীরে প্রোটিন এর অভাব ঘটে যা আরো নানা ধরণের জটিলতা বয়ে আনতে পারে।
৬. গবেষনায় ভিটামিন সেবনে জন্ডিস দ্রুত আরোগ্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ভিটামিন খাওয়া অত্যাবশ্যক না।
৭. সমস্ত শরীরের মেটাবলিজমের অনেকটাই নির্ভর করে লিভারের উপর।তাই  এসময় বিশ্রাম নিন। এতে করে মেটাবলিজমের হার কমবে এবং লিভারের উপর চাপ কম পরবে।