জমি ক্রয়ের ৮ কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয় ॥ রাতভর ভাড়া করা মেশিন দিয়ে ভাগাড়ে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা

শাহীন হাফিজ ॥ নগরীর বর্জ্যরে স্তুপ সরাতে রাতভর ভাগাড়ে (ডাম্পিং স্টেশন) ভাড়া করা স্কাবেটর মেশিন দিয়ে কিছুটা জায়গা করে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে আপাতত যে ক’দিন স্কাবেটর দিয়ে জায়গা বের করা যাবে যে ক’দিন বর্জ্য ফেলা যাবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদী কোনো সুফল আসছে না। ফলে যে সমস্যা তাই থেকে যাচ্ছে বলে পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মকর্তারা জানান।
সিটি কর্পোরেশনের সহকারী পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ জানান, গত রাত থেকে স্থানীয় এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ভাড়া করা স্কাবেটর দিয়ে ভাগাড়ে বর্জ্য ফেলার স্থান করা হচ্ছে। এতে তেল ও স্কাবেটর চালক খরচ সহ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন ভাড়া স্কাবেটর দিয়ে কাজ করতে হলে প্রতিদিন ঐ পরিমান টাকার প্রয়োজন। গতকাল বুধবার সরেজমিনে নগরীর ৩নং ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলার ভাগারে গিয়ে দেখা গেছে রাতভর যে জায়গা করা হয়েছে তাতে কেবল বর্জ্যরে ট্রাক’র সামান্য ঢুকিয়ে বর্জ্য অপসারন করা হচ্ছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সিটি মেয়র মোঃ আহসান হাবিব কামাল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মতিউর রহমান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ফারুক সহ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। এসময় মেয়র সংশ্লিষ্টদের তড়িৎ গতিতে কাজ করে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
পরিচ্ছিন্নতা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ ডাম্পিং স্টেশনে এখন বর্জ্য ফেলার জায়গা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেননা বর্জ্য ফেলতে ফেলতে চারদিক ভরে গেছে। এখন বর্জ্যরে ট্রাক প্রবেশের রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে রয়েছে। তার উপর বর্ষা মৌসুমে বর্জ্য কর্দমাযুক্ত হওয়ায় তা সরাতে বেগ পেতে হচ্ছে। সারারাত কাজ করে সামান্য বর্জ্য স্কাবেটর দিয়ে সরানো হয়েছে। এতে প্রতিদিন ব্যয়ই বাড়তে কিন্তু বর্জ্যরে স্তুপ কমানো সম্ভব হবে না।
বিসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মতিউর রহমান জানান, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে অনেক চেষ্টা করে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় সরকারের কাছ থেকে বর্জ্য ফেলতে জমি অধিগ্রহনের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া হয়েছিলো। ঐ সময় ৮ কোটি টাকা দিয়ে জমি অধিগ্রহন না করে অন্য খাতে খরচ করেছে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তারা এমন সংকটের কথা ভেবেই ৫ বছর পূর্বে এ উদ্যোগ নিয়েছিলো। কিন্তু ঐ টাকা খরচ করায় আর জমি অধিগ্রহন করা হয়নি। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। অধিগ্রহনকৃত জমি পেতে হলে সিটি কর্পোরেশনকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। যা বর্তমান দৈন্যদশায় কোনো মতেই সম্ভব নয়। কেননা অর্থ সংকটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই সিটি কর্পোরেশন অধিগ্রহনকৃত জমির মূল্য কোনো ভাবেই পরিশোধ করতে পারবে না। তিনি বলেন বর্তমানে ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ফেলতে স্কাবেটর মেশিনের পাশাপাশি একটি বুলডোজার মেশিনের প্রয়োজন। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বার বার তাগিদ দেয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তাই বর্জ্য নিয়ে সামনে বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনকে।
এদিকে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ক্রয়কৃত স্কাবেটর মেশিনটি মেরামত না করায় দীর্ঘদিন ভাগাড়ে পড়ে থেকে তা দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঐ মেশিনটির অপারেটর থাকলেও মেশিনটি অবহেলায় জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে ভাগাড়ের পাশে। বিসিসি’র যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম টিপু জানান, নতুন স্কাবেটর মেশিন ক্রয় করতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন। পূর্বের মেশিনটি সচল করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
নগরীর সচেতন মহল জানান, সিটি কর্পোরেশন থেকে বাড়তি কর আদায় করা হলেও নগরবাসী নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রায়ই বেতন-ভাতা নিয়ে আন্দোলনে শ্রমিকরা বর্জ্য অপসারন বন্ধ রাখে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। গত দু’দিন ধরে বর্জ্য অপসারনের এ শ্লোথ গতিতে নগরীর পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তার উপর ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য আর ফেলা যাচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ না নিলে এ অবস্থার উন্নতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তারা।