জাল অভিজ্ঞতা সনদে চাকুরীর অভিযোগ কাঠালিয়ার প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ॥ তদন্তে না এসে সময় ক্ষেপন

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ৭৪নং দক্ষিণ-পূর্ব চেঁচরী জমাদ্দার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষিকা মাছুমা আক্তারের বিরুদ্ধে কম্পিউটার অভিজ্ঞতার জাল সার্টিফিকেট ব্যাবহারের তদন্ত কার্যক্রম পিছিয়ে গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক এই অভিযোগের বিষয়ে দুদুবার তাকে তদন্তের চিঠি দিলেও তিনি না আসায় এই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়নি। ইতিপূর্বে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গত ১৪ জানুয়ারী ২০২১ তারিখ এবং গত ১৮ জানুয়ারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মাসুমা আক্তারকে কাগজপত্রসহ তদন্ত কার্যক্রমে উপস্থিত হতে বলা হলেও তিনি না আসায় তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নট্রামস এর ভূয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে বিগত সাত (৭) বছর ধরে চাকরী করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন ও অর্থ আত্মসাৎ করছে শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার। কাঠালিয়ার উত্তর আউরা গ্রামের জনৈক শাহ জালাল আকন এই অভিযোগ করেন। অভিযোগে প্রধান শিক্ষকা মাছুমা আক্তারের বিরুদ্ধে কম্পিউটারে অভিজ্ঞতার জাল সার্টিফিকেট দিয়ে গত ১৬ জুন ২০১৩ তারিখ থেকে চাকরি করে আসছে বলে উল্লেখ করা হয়। গত ২৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখ ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে এ লিখিত অভিযোগ করা হয়। অপরদিকে প্রধান শিক্ষকা মাছুমা আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মস্থল চেঁচরী রামপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একই সনদ দিয়ে সহকারি শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে চাকরি করার অভিযোগ করা হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৪ জানুয়ারি তদন্তের দিন ধার্য হলেও মাছুমা আক্তার হাজির হননি। এদিকে প্রধান শিক্ষকা মাছুমা আক্তারের কম্পিউটার সনদ যাচাইয়ের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার মাহবুবা হোসেন (স্বারক-জেঃ/শিঃ/অঃ/ঝাল-৯২২তারিখ-২৩-০৭-২০১৩) নম্বর স্মারকে জাতীয় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী, নট্রামস পরিচালক বরাবর চিঠি প্রেরণ করেন। জবাবে সনদটি নট্রামস কর্তৃপক্ষ ইস্যু করেনি বলে জানায়।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী শাহ জালাল আকন জানান, প্রধান শিক্ষকা মাছুমা আক্তার ভূয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে ৭ বছর ধরে চাকরি করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করছে। আমি এ অভিযোগ করায় মাসুমা আক্তার জাল অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করার ভয়ে একাধিকবার সময় চেয়ে কালক্ষেপন করছে। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার বলেন, অভিযোগকারী শাহ জালাল আকন আমার প্রাক্তন স্বামী। তিনি আমাকে হয়রানী করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি তদন্তে না আসার বিষয়ে শিক্ষা অফিসারকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে ঝালকাঠী সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার উভয় পক্ষকে তদন্তের জন্য ডাকা হয়েছিল। অভিযোগকারি শাহজালাল আকন তার অভিযোগের সমর্থনে কাগজপত্র দিলেও শিক্ষিকা মাসুমা আক্তার লিখিত ভাবে আসতে না পারার জন্য সময় চেয়েছেন।
এদিকে কাঠালিয়া উপজেলার ৭৪নং দক্ষিণ-পূর্ব চেঁচরী জমাদ্দার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষিকা মাছুমা আক্তারের বহু বিবাহ, সহ স্বামী-সন্তান থাকা অবস্থায় তালাকপ্রাপ্তের কোঠা দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকা হওয়া সহ নানান প্রতারনামূলক কর্মকান্ডে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার একজন প্রাক্তন স্বামী জানান, চারটি বিবাহ করেও সে ক্ষান্ত হয়নি। স্বামী-সন্তান রেখে নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এলাকাবাসী জানান, তার অপকর্মের তদন্ত চললেও সে সব কিছু ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে থেকে যাচ্ছেন। এতে করে শিক্ষক সমাজের প্রতি সেখানকার মানুষের বিরূপ ধারনা তৈরী হচ্ছে। তারা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, পূর্বের জালিয়াতি কাগজে কাজ না হওয়ায় তদন্ত কমিটির কাছে পুনরায় জালিয়াতির কাগজ দেয়ার জন্য সময়ক্ষেপন করে তা প্রস্তুত করতে নানান প্রতিষ্ঠানের কাছে ধর্না ধরছেন মাছুমা আক্তার।