ডাইনি শিকার

রেশমা ইয়াসমিন ॥ বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীতে ভয়ংকর যেসব প্রথার প্রচলন ছিল বা এখনো আছে ডাইনি শিকার এর মধ্যে অন্যতম। ডাইনি শিকার বা জাদুকর শিকার মানুষের নির্মমতম প্রথাগুলোর একটি। কুসংস্কারই ভয়াবহ এ প্রথার মূল কারণ। কোনো মানুষকে ডাইনি বা জাদুবিদ্যায় পারদর্শী সন্দেহ করে তার ওপর ভয়াবহ নির্যাতন করে অনেক ক্ষেত্রে তাকে জীবিত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা হয় ডাইনি শিকারের নামে। কুসংস্কারচ্ছন্ন মানুষ বিশ্বাস করত জাদুটোনার মাধ্যমে কেউ কেউ তার বা তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করছে। ফলে ক্ষতিকর সেই জাদু থেকে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের বাচানোর জন্য তারা শুরু করত ডাইনি শিকার। ১৭৫০ সালের আগে পৃথিবীর অনেক স্থানে ডাইনি শিকার আইনগতভাবে বৈধ ছিল। ডাইনি শিকারের ভয়াবহতম ঘটনাটি ঘরে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। সেই সময় পোপ ইনোসেন্ট -৩ প্রায় ১০ লাখ ক্যাথার্সকে ডাইনি বলে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষনা দেন, এদের একজনকেও যে কোনো ছাড় দেওয়া না হয়। শিশুরাও যাতে ছাড় না পায় সে ব্যাপারেও তিনি কড়া নির্দেশনা দেন। অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত জার্মানির আইনে জাদুটোনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। বর্তমানেও কিছু সংস্কৃতিতে একে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশ এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রতিবছর ডাইনি শিকারের নামে মানুষ হত্যা করা হয়। মুলত নারী ও শিশুদেরই ভয়াবহ এ প্রথার শিকার হতে হয়।
প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ডাইনি শিকারের অজুহাত দেখিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এসব হত্যাযজ্ঞে কখনো কখনো প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছে রাষ্ট্র। ১৫৪২ থেকে ১৭৩৫ সালের মধ্যে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে জাদু-সংক্রান্ত বেশ কিছু আইন প্রনয়ন করা হয়। জাদুবিদ্যা প্রয়োগের কারনে ১৬৮২ সালে ইংল্যান্ডে সর্বশেষ রাষ্ট্রীয় বিচার সম্পন্ন করা হয়।