দাম পতনে ভোলার পান চাষীরা দিশেহারা

মনিরুজ্জামান,বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতাঃ
পুরো বাজার জুড়েই রয়েছে পান।ছোট,বড়,মাঝারি।দেখে মনে হয় প্রতিযোগীতার জন্য পানের পরসা সাজানো হয়েছে।তবু ও হাসি নেই তাদের মুখে।
ক্রমহ্রাসহারে দাম পতনে দিশেহারা হয়ে পড়ছে চাষীরা।পানের রোগবালাই,শ্রমিকের মুজুরী ,সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ার কারণে পানের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।পান বিক্রয়ের টাকা দিয়ে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে তেমন লাভ করতে পারছে না চাষীরা।আবার অনেকে এনজিও সংস্থা থেকে ঋন নিয়ে কিস্তি দিয়েই দিশেহারা।ভোলার বৃহত্তম পান বাজার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালালপুর বাজারের পান চাষীরা এ সব কথা জানান।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,প্রত্যেকের মাথায় বিশেষ কায়দায় গোছানো পানের পোয়া,দেখতে অনেকটাই টুপরির মতো।উপর- নিচে কলাপাতা দেওয়া। সাজানো পানের বোটাগুলো বাইরে থেকে বেশ সুন্দরই দেখা যায়। আলাপকালে স্থানীয়রা জানায়,এটি জেলার বৃহত্তর পান বাজার । সপ্তাহের রবি ও বুধবার এখানে পানের হাট বসে। শীত মৌসুমে প্রতি হাটে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার বিকিকিনি হয়। বর্ষা মৌসুমে তা কমে দাড়ায় ৮ থেকে ১০লাখ টাকায়। জেলার বিভিন্ন উপজেলার পান উৎপাদনকারী ও ক্রেতাগন এ বাজারে বেচাকেনার জন্য আসেন।দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের চাষী নুরে আলম,লেজপাতার আকতার হোসেন জানান,বর্ষা মৌসুমে পানের উৎপাদন বেশী । দাম কম। কীটনাশকের দাম, শ্রমিকের মুজুরি বাড়ছে। সব খরচ’র পর বছরে লাখ টাকার মতো আয় থাকে।চরফ্যাশন উপজেলার মানিকা ইউনিয়নের একাব্বর আলী জানান,শ্রমিকের মুজুরী বৃদ্ধি পাওয়া আগের তুলনায় আয় কম হয়।উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ,দক্ষিন কুতুবার সম্পদ চন্দ্র দে,টবগী ইউনিয়নের সত্যরঞ্জন মৃধা জানান,কইতরী পোকার(সাদা মাছি) আক্রমনে তারা দিশেহারা।বছরের ১২ মাসই এই পোকার উপদ্রব থাকে।কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগীতার তারা কমনা করেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান,বোরহানউদ্দিনে ১১৯ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে।কৃষি অফিস তাদেরকে পরামর্শ সহ সর্বাত্বক সহযোগীতা প্রদান করবে।
কালির হাট পান বাজার সমিতির সম্পাদক তাজল আহমেদ উপরোক্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,সরকারী খাতে প্রতি বছর ইজারা বাবত ভাল টাকা দেওয়া হয়। বর্ষা কালে উম্মুক্ত স্থানে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর। এ সব কারনে আগের চেয়ে পাইকার কমেছে।পাইকাররা এখান েেথকে পান ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন এলাকায চালান করেন্। পাইকার নির্মল চন্দ্র,মনা,চন্দ্রসাগর সহ কয়েকজন জানান,প্রতি বিড়া পান তারা ৬০টাকায় কিনে যা ৮০টাকায় বিক্রয় করা হয়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ আঃ কুদদূস বাজারটি পরিদর্শন করেন।বাজার কমিটি কতিপয় সমস্যার কথা শুনেন।তিনি ইত্তেফাককে জানান,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্ময় করে এ বাজারটির উন্নযন করব।এতে করে বেকার সমস্যা হ্রাস পাবে,চাষীদের আগ্রহ বাড়বে ও বিদেশে রপ্তানীযোগ্য পান চাষের সম্প্রসারণ ঘটবে।