দুর্যোগ পূর্ন আবহাওয়ায় বরিশালের অভ্যান্তরীন রুটে নৌ চলাচল বন্ধ

বৈরী আবহাওয়া ও নদীবন্দরগুলোতে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করায় বরিশালের অভ্যন্তরীন ১৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
শুক্রবার সাকল থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীন সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ায় নৌবন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যেকারনে বরিশালের অভ্যন্তরীন ১৩টি রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে কোনো লঞ্চ অভ্যন্তরীন রুটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। আবার কোনো লঞ্চ বরিশাল নদীবন্দরে যাত্রী নিয়েও আসেনি।
এদিকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ও বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগরজীবন। এছাড়া বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে একটানা মুষলধারায় বৃষ্টি হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বরিশালে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাত ২টা থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়। নি¤œচাপের কারনে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, সর্বশেষ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আবুপুরের নয়াভাঙ্গলী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানের মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ও ভোলার তেতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।