নারী কেলেঙ্কারীতে ওসি ক্লোজড

বরগুনা প্রতিনিধি ॥ নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগে জেলার বামনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়ীক বরখাস্ত করে সোমবার ক্লোজ করে বরগুনা পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। একই সাথে বামনা থানার উপ-পরিদর্শক আবদুস সত্তারকে ওসির দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসি মনিরুল ইসলাম চৌধুরী বামনা থানায় ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর যোগদান করার পর বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন। শহরে ঘুরতে নামলে তরুণীদের চোখে পড়লে আগ বাড়িয়ে সখ্যতা গড়ে তোলা এবং মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রেমালাপ করতেন। এমনি ভাবে অনেক তরুণীদেরকে ফাদেঁ ফেলে সর্বনাশ করতেন ওসি। ওসি ক্লোজ হবার পর বামনার একাধিক তরুণী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার মত জঘন্য প্রকৃতির লোক পুলিশ বিভাগে থাকা উচিৎ নয়।

বামনার তরুণী লাকি আকতার জানান, পুলিশ বিভাগের মান সম্মান ওসি মনিরুল ইসলাম চৌধুরী ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছেন। তাকে চাকরীচ্যুত করে জেলে রাখার ব্যবস্থা করা উচিৎ। বামনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু জানান, আমি অনেক আগেই তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ এনেছি। কিন্তু  পুলিশ প্রশাসন তার কথায় কর্ণপাত করেননি।

এমনকি গত রোববার ওসি বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার সময় তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাধা দেয়। তিনি আরো বলেন, অনেক অসহায় তরুণীরা ওসির ব্যাপারে পরে সর্বস্ব হারিয়েছে।

বামনা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হোসেন জানান, ওসির বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা যদি সত্য হয়, তাকে পুলিশ বাহিনীতে রাখা ঠিক হবে না। বরগুনার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা পাওয়ার পর তাকে (ওসি) ক্লোজ করে বরগুনা পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।