প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা, তিনি কখনও চাইবেন না কোন লোক বা প্রতিষ্ঠান টাকার অভাবে ভোগেন — পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান না হলে আমরা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করতাম না। তিনি না থাকলে আজ আমরা বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাড়াতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা তার পিতার সপ্ন বাস্তবায়নে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন। রবিবার সকাল ১০টায় নগরীর শিল্পকলা একাডেমী অডিটরিয়ামে স্বতন্ত্র ইবতাদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্য জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বতন্ত্র ইবতাদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের যে সমস্যার কথাগুলো আজ বলা হলো এগুলো সমাধানে সরকার অবশ্যই এগিয়ে আসবে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাহায্যুতের নামাজ পরেন প্রতিদিন। মাদরাসার শিক্ষার প্রতি তার একটা টানও রয়েছে। বাংলা-ইংরেজী ভাষার সাথে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেন সমান তালে এগিয়ে আসতে পারে সেটা তিনি চান। তাহলে বঙ্গবন্ধুর যে সপ্ন সোনার বাংলা গড়ার সে লক্ষ্যে আমরা পৌছতে সক্ষম হবো। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যদি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে এক কাতারে নিয়ে আসতে না পারি তাহলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০১৮ সাল থেকে আপনাদের বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমি জানি আপনাদের কষ্ট, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে বেতন পান, একই মর্যাদার হলেও সেটি আপনারা পান না। তিনি বলেন, ড. মোহাম্মদ এয়াকুব হোসেনের কাছ থেকে জানতে পারলাম আপনাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৩১১ কোটি টাকার একটি অর্থ বরাদ্দ হয়েছিলো। কিন্তু একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে, আপনাদের অনেক মাদরাসার রেজিষ্ট্রেশন করা আছে, মোবাইল নম্বর দেয়া আছে কিন্তু মাঠে সে মাদরাসাগুলো নেই। একটি মাদরাসা কিংবা স্কুল করতে হলে নিয়ম হলো শিক্ষা দফতরের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে করতে হবে। কারন যে এলাকার জন্য একটি প্রাইমেরি স্কুল বা মাদরাসা খোলা হবে সেটি সেখানে দরকার আছে কিনা ঐ অধিদপ্তর তা বলতে পারবে। আমরা প্রায়ই দেখতে পাই রাস্তার পাশে বাচ্চা ছেলেদের একটি চাদর দিয়ে দার করিয়ে দেয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারছি মাদরাসা করার জন্য চাঁদা তোলা হচ্ছে। এভাবে করে রাস্তা-ঘাট, অলিতে-গলিতে মাদরাসা খোলা হয়েছে। এর ফলে সঠিক কত মাদরাসা রয়েছে তার হিসেব সরকারকে দেয়া হয়নি। সরকার যে একটা প্লান করবে তার জন্য সঠিক তথ্যের তো প্রয়োজন আছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা, তিনি কখনও চাইবেন না কোন লোক বা প্রতিষ্ঠান টাকার অভাবে ভোগেন। প্রধানমন্ত্রী সবসময় চান দেশের উন্নয়ন করতে হলে সকলের কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। আগের কোন সরকার আপনাদের কোন দাবি দাওয়া কি মেনেছিলো? এই সরকারই কিন্তু আপনাদের দাবি-দাওয়া কিছুটা মেনেছেন, বেতন বাড়িয়েছেন এবং শিক্ষকদের বেতনের তারতম্যের বিষয়ে সরকার অকিবহাল রয়েছেন। স্বতন্ত্র ইবতাদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের সমন্বয়কারী হাফেজ কাজী ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রশান্ত কুমার দাস, ঢাকা আলিয়া মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ এয়াকুব হোসেন, বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, স্বতন্ত্র ইবতাদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের মুখপাত্র জয়নাল আবেদীন জিহাদী, মো. শামছুল আলম প্রমুখ।