বরগুনা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী’র বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ

বরগুনা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক (পানি সরবরাহ শাখা) মো. সাইফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে টাকা উপার্জন সহ নানান অনৈতিক কার্যকলাপের বিচার দাবী করে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১০ বছরের চাকুরী জীবনে অবৈধ ভাবে টাকা উপার্জন সহ নানান অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন তিনি। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকুরীর সুবাদে দূর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে একাধিক বাড়ি, বিভিন্ন নামে বেনামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জমি ক্রয় করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে একাধিক ব্যাংকে হিসাব নম্বর খুলে লাখ লাখ অবৈধ টাকা জমা করেছেন। তার অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে বরগুনা পৌরসভার বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে একটি রুম বছরের পর বছর দখল করে রেখেছেন। পৌরসভা থেকে পানির লাইন নেয়ার জন্য নির্ধারিত ফিয়ের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তার সব টাকার ভাউচার না দিয়ে অবশিষ্ট টাকা নিজে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে তার অফিস কক্ষে সেবা নিতে আসা লোকজনের সাথে অশ্লীল আচরণ করে। এমনকি অফিসে বিভিন্ন সময় মেয়েদের নিয়ে আড্ডা দেন ও নেশার আসর বসান। দুপুরের খাবারের সময় তার কক্ষে বিভিন্ন মেয়েদের তার রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে ফুর্তি করেন। বিভিন্ন নামে বেনামে মোবাইলের সিম ও ফেজবুক আইডি খুলে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে সম্পর্ক করে তাদের সর্বনাশ করে আসছে। ইতোপূর্বে নেশাজাতীয় দ্রব্য সহ পুলিশের হাতে আটক হলেও প্রভাবশালী মহলের তদবীরে ছাড়া পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে তাদের জীবন নষ্ট করেছেন। যাদের অনেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক বার অভিযোগ দিলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় মাদক বিক্রেতা ও সেবী সহ সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা থাকায় তার অনৈতিক কর্মকান্ডে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। এমনকি তাকে সবাই সাবেক পৌর মেয়রের পালিত পূত্র হিসেবে জানেন। এ কারনে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সহস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে বরগুনা পৌর সভার নব-নির্বাচিত মেয়র মো. কামরুল আহসান মহারাজ সাংবাদিকদের জানান, আমি নতুন নির্বাচিত মেয়র, এখন পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছি না। বরগুনা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। শত্রুতা বশত কেউ এ কাজ করতে পারে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ মর্মে গত ৮ ফেব্রুয়ারী জনৈতিক মো. কাওছার হামিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।