বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিজিডি’র উপকার ভোগী মহিলাদের চাল আত্মসাধের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নে ভিজিডি’র উপকার ভোগী মহিলাদের চাল আত্মসাধ ও অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে। ভিজিডি’র তালিকায় নিজের নাম ও স্বামীর নাম থাকলেও ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য কোন ব্যাক্তির মাধ্যমে এই সুবিধা আত্মসাধ করা হচ্ছে। এছাড়াও অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের জন্য মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দির্ঘ ১৮ মাস ধরে ভিজিডি’র উপকার ভোগী মহিলারা এই চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়নে ভিজিডি’র উপকার ভোগীরা। উপকার ভোগীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ভুক্তভোগী ঐ এলাকার মো. কামাল উদ্দিন সিকদারের স্ত্রী আমিনা বেগম।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুই বছর মেয়াদী অসহায় দুস্থ নারীদের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজী করে ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। সেই হিসেবে আমরা ৭নং কবাই ইউনিয়নের দুস্থ অসহায় নারীরা এই চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস ধরে সরকারের এই কার্যক্রমে আমাদের নাম রয়েছে যা আমরা জানতাম না। একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদার ও প্যানেল চেয়ারম্যান আরাফাত ইসলামের কাছে গিয়েও আমরা ফিরে এসেছি। তারা আমাদের তালিকায় নাম নেই বলে ফিরিয়ে দিয়েছে। পরে একটি মাধ্যমে আমরা জানতে পারি আমাদের নামের বরাদ্দকৃত চাল ঠিকানা পরিবর্তন করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঐ তালিকায় আমার (আমিনা) নাম আছে।
তিনি বলেন, আমরা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তালিকা সংগ্রহ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হই। সেখানে শুধু আমি একাই নই আরও অনেরকের নাম আছে জারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। আমার সিরিয়ালে নাম আছে এমন লক্ষিপাশা গ্রামের মোসাঃ হাওয়া বেগম, আমেনা বেগম, আকলিমা আমেনা বেগম, আসমা রয়েছে। এছাড়াও আরো অনেকে রয়েছে যাদের প্রত্যেকের নিজের, স্বামী , পিতার নাম ঠিক থাকলেও ঠিকানা পরিবর্তন করে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে অসহায় কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত ২৫০০ টাকা দেয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করা হয়। সেখানেও মোবাইল নম্বর পাল্টে দিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন তারা। চুরান্ত তালিকা অনুসারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তালিকার সিরিয়ালে কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘূনী গ্রামের হারুন অর রশিদের স্ত্রী হালিমা বেগমের নাম থাকলেও সেখানে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ভবানীপুরের মিলন চন্দ্র দাসের। তালিকায় আর একজন কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী গ্রামের কবীর হাওলাদার লেখা থাকলেও সেখানে ফোন করে জানাযায় ফোন নম্বরটি মো. জামাল নামের এক ব্যক্তির। যিনি কুমিল্লা চকবাজার এলাকার বাসিন্দা। তালিকা অনুসারে এমন ১১ জন ব্যক্তির নাম ঠিকানায় অন্য কোন ব্যক্তির মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অন্যজেলার বাসিন্দাও রয়েছে। ঐ ১১জন ছাড়াও আরো অনেকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে বাকেরগঞ্জের ৭নং কবাই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ জহিরুল হক তালুদকার বলেন, ভিজিডি’র উপকার ভোগী মহিলাদের সংখ্যা ২৪৯ জন। তাদের প্রত্যেককে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থের ৪ এর ১ অংশ এখোনো পায়নি। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি জানি। অনেকে কার্ড পাওয়ার পর সেই কার্ড বিক্রি করে দেয়। আবার একজনের কার্ড অন্য গ্রামেও দিয়েছে। এখানে অনিয়ম হলেও দূর্নীতি করা হয়নি। তাছাড়া মেম্বররা আমার কাছে তালিকা নিয়ে আসে। কর্মহীনদের আর্থিক সাহায্যের বরাদ্দকৃত অর্থের জন্য ৯৫২ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে হয়তো মোবাইল নম্বর ভুল হতে পারে। এক্ষেত্রে যদি আমার কোন ঘনিষ্ট লোকের নাম ও মোবাইল নম্বর থাকে তাহলে এর দায় দায়িত্ব আমি নিতে রাজি আছি।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায় বলেন, তিন দিন পূর্বে আমি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছে।