বরিশালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা থাকলেও নেই আইসিইউ

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য বরিশাল বিভাগে ৭৮২টি আইসোলেশন বেড এর ব্যবস্থা থাকলেও আইসিইউ প্রস্তুত রয়েছে মাত্র ২টি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৬ জন করোনা সন্দেহে চিকিৎসাধীন রয়েছেভর্তি হওয়া আরো ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন জানিয়েছেন ২০টি আইসোলেশন বেড ও ২টি আইসিইউ প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে ১৫০টি আইসোলেশন বেড ও আরো ৮টি আইসিইউ প্রস্তুত করা যাবে। তিনি জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য এক হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিই সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী শুক্রবার এসে পৌছেছে। তবে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ মেশিন পিসিআর ও কিট এসে পৌঁছায়নি। এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দু’ সহ¯্রাধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও করোনা আতংকে কমছে রোগীর সংখ্যা। শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো ৫৩৯ রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন করোনা আতঙ্কে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের অভিযোগ চিকিৎসকরা হাসপাতলে আসছেন না। বরিশালের বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে জানা গেছে, হঠাৎ করেই এসব হাসপাতালে চেম্বার করার চিকিৎসকরা রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে সাধারণ চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ২ হাজার ৭৫৮ জনের মধ্যে ১২০৪ জনকে কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ১৪ দিন বাড়িতে অবস্থানের পর কোনো উপসর্গ দেখা না যাওয়ায় এ ১২০৪ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে শনিবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে আরও জানান যে ১০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ বিভাগের ৬ জেলায় মোট ২ হাজার ৭৫৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল করোনা সন্দেহে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডগুলোতে রোগী ভর্তি করা হলেও এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমিত কোনো রোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৮২টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ২টি আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শেবাচিম হাসপাতালের উর্ধ্বতনরা নাম প্রকাশ না করার শত্যে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ মেশিন পিসিআর ও কিট স্থাপনের ল্যাবরেটরি প্রস্তুত নেই বরিশালে। মেশিন স্থাপনের জন্য যে প্রক্রিয়া প্রয়োজন তা শুরু না হওয়ায় এবং মেশিনটি পরিচালনার জন্য যে ব্যবস্থাপনা দরকার তা না থাকায় কিট ও মেশিন আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তথ্যসূত্র দৈনিক ইত্তেফাক।