বরিশালে গভীর রাতে পোর্ট রোড ও দপ্তরখানায় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে পৃথক অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর নগরীর পোর্ট রোডে ও দপ্তরখানা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পোর্ট রোড এলাকার অগ্নিকান্ডে ১৩টি আড়ৎ, একটি তেলের দোকান এবং একটি ককসিটের দোকানসহ প্রায় ২০/২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। সাথে গোয়াল ঘরে বাঁধা ৪টি গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
পোর্ট রোড এলাকার মৎস্যজীবি নেতা নিরব হোসেন টুটুল জানান, দোকানঘরগুলোর পাশে একটি খরের গাদা ছিল। সেখান থেকেই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। এতে পোর্ট রোডের ১৩টি মাছের আড়ত সহ ২০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি তেলের দোকান এবং একটি ককসিটের দোকানও রয়েছে। এছাড়া ভস্মিভূত ১৩টি মাছের আড়তে মাছ ছিল প্রচুর পরিমানে যা ভোর ৪টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ আড়ৎ মালিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে তারা কেউ ব্যাংকে টাকা রাখেননি। সবটাকা আড়ৎএই ছিল। এছাড়া তাদের সবগুলো রেফ্রিজারেটরই আগুনে পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় সবমিলিয়ে তাদের প্রায় এক কোটি টাকারও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকান্ডে ভস্মিভূত প্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন গোয়াল ঘরের তত্ত্বাবধায়ক হুম্মাত আলী জানান, গোয়াল ঘরে প্রায় ২০টি গরু ছিল। অগ্নিকান্ডের সাথে সাথে সবগরু ছেড়ে দেয়া হলেও ৪টি গরু সেখানে আটকা পড়ে আগুনে পুড়ে মারা যায়। এছাড়া বেশ কয়েকটি গরুর আংশিক অংশ আগুনে পুড়ে গেছে। সেগুলোকে জবাই করেছে কসাইরা।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ মোঃ আওলাদ হোসেন জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০টির মত দোকান ভস্মিভূত হয়েছে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন জানান, অগ্নিকান্ডে প্রায় ২৫টির মত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। তবে তদন্ত ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না।
অপরদিকে ভোররাত ৪টার দিকে নগরীর দপ্তর খানা কাঠের গোলা এলাকায় অগ্নিকান্ডে ১৬টি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এবং পরে আরো বেশ কয়েকটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। দপ্তরখানা এলাকার কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু ইত্তেফাককে জানান, ধারনা করা হচ্ছে একটি চায়ের দোকান থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটেছে। এতে মতিন, আলাউদ্দিন, ইসরাফিল ও মিতুর ৪টি ফার্নিচারের দোকান, মিজানুর রহমান, হালিম তালুকদার, ফরজ আলী, রনি হাওলাদার, জাকির ও হারুনের ৬টি কাঠের দোকান ও কুদ্দুস মিয়া এবং অপর আরেকজনের চায়ের দোকানসহ মোট ১৪টি দোকান পুড়ে যায়। অগ্নিকান্ডে ৩০ লাখ টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা ধারনা করেছে। কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক ৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করে প্রায় দেড় ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন তা জানাতে পারেননি তিনি।