বরিশালে ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে পিতার সংবাদ সম্মেলন

চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে গিয়ে বন্ধুদের সহযোগীতায় খুন হয় বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আমির গাজী। মূলত এক লাখ দশ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি চুরি করে আত্মসাত করতে পরিকল্পিতভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর খুনের পর আমির গাজীর পরিবারকে জানানো হয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিহতের পিতা আলতাফ গাজী। তিনি জানান, আলেকান্দা ১৪নং ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনীর বাসিন্দা তার ছেলে আমির গাজী (২৪) বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মীরা বাড়ির পুল মসজিদের সামনে কবুতর ও পাখির দোকান রয়েছে। তার ব্যবসায়িক কাজে চলাফেরার জন্য একটি লাল রংয়ের ইয়ামাহা মোটর সাইকেল ব্যবহার করতো সে। মোটরসাইকেলটির মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি আমির গাজী মোটর সাইকেলটি মীরাবাড়ীর পুল গলির মুখে রেখে নিজের পাখির দোকানে যায়। বিকেল ৫টার দিকে ফিরে মোটরসাইকেলটি খুজে পায় না। স্থানীয় অলি (১৭) জানান, মীরা বাড়ির পুল এলাকার এমরান, হৃদয় ও রাজা মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরে সন্ধান পায় নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের সিএন্ডবি রোডের পশ্চিম পাশে ইসলামপাড়ায় আসাদুজ্জামান বাদশার ওয়ার্কশপে মোটরসাইকেলটি রাখা আছে। খবর পেয়ে ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আমির গাজী বাদশার ওয়ার্কশপে মোটরসাইকেল দেখতে পান। সে তার মোটরসাইকেলটি বের করে আনতে গেলে অভিযুক্ত চোর এমরান, হৃদয় ও রাজা মোটরসাইকেলের ত্রæটি মেরামত করে দেওয়ার কথা বলে সময় নষ্ট করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আমির গাজীর বন্ধু হানিফ আকন, মেহেদী, বনি আমিন ও রাফি সহ ১৪/১৫ জন। মোটরসাইকেল চুরির কথা বলায় সংঘবন্ধ কিশোর গ্রæপটি জিআই পাইপ, কাঠের চলা, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করেন আমির গাজীকে। মারধরে আমির গাজী অসুস্থ হয়ে পড়লে মারধরকারীরাই তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে দউি ঘন্টা পর আমির গাজীর পিতাকে মোবাইলে তার বন্ধুরা জানায়, আমির গাজী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৮টায় মৃত্যুবরণ করেন আমির গাজী। এ ঘটনায় নিহতের মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় ২৭ জানুয়ারি ৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় পুলিশ দুইজনকে আটক করলেও তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছে।
এদিকে ৪ এপ্রিল খাদিজা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে আবারও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনকে আসামী করা হয়েছে। এরা হলো- এমরান (২২), হৃদয় (২৪), রাজা (২২), আবিদ (১৯), মেহেদী (১৯), রাফি (১৯), আসাদুজ্জামান বাদশা (২৪), বনি আমিন (২৩) ও হানিফ। আলতাফ গাজী আরও বলেন, হত্যাকারীরা জামিনে বের হয়ে আমার পরিবারকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে ঘাতকদের গ্রেফতার করার দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিহত আমির গাজীর মা খাদিজা বেগম, বোন জোনাকি ইসলাম আকন, নানী জোহরা বেগম, ফুপাতো ভাই সুজন, চাচাতো ভাই মো. খায়রুল উপস্থিত ছিলেন।