বরিশালে তরুনী হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বরিশাল এনে আবাসিক হোটেলে নাইমা ইব্রাহিম ঈশী নামে কলেজ ছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় টানা ৫ দিন অভিযান চালিয়ে ঘাতক ও প্রতারক প্রেমিক সায়েম আলম ওরফে মিমু (২৭)কে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে বিএমপির কনফারেন্স রুমে পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য প্রদান করেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, ফেইসবুকের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেম ছিলো তাদের দুইজনের মধ্যে। ১০ আগস্ট মিমু নামওে ওই প্রতারক প্রেমিক ঢাকা থেকে বরিশালে আসে। এরপর তরুনীকে সাথে নিয়ে হোটেলে ফেয়ার স্টারে নিয়ে ধর্ষণ করে রুমের বাইরে থেকে ছিটকানী আটকে ঐ তরুন চলে যায়। কিন্তু ঐ তরুন হত্যার কথা এখন পর্যন্ত স্বীকার করেননি। ধর্ষনের পর তরুনীর সাথে থাকা মোবাইল, স্বর্নের চেইনসহ টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক সায়েম আলম ওরফে মিমু।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ্ মোঃ আওলাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদ ও মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে কোতয়ালী মডেল থানার একটি টিম ঢাকার মগবাজার এলাকায় টানা ৫ দিন অভিযান চালায়। সোমবার রাতে ঐ এলাকা থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামী প্রেমিক সায়েম আলম ওরফে মিমুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত’র বাসা ঢাকার ওয়ারী এলাকায়। আর হত্যার শিকার তরুনীর বাড়ী নারায়নগঞ্জে। সে নগরীর গোরস্থান রোডের বাসায় ভাড়া থাকত।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয় আটককৃত আসামী এর পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে জান্নাতী, রিয়া, রিমা, সূবর্না, তমা, সুরাইয়া, সুমাইয়াসহ ১২/১৩ জন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ধর্ষণ করে মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নিত। ভিকটিমদের সাথে কথা বলে যার সত্যতাও পাওয়া গেছে।
উলেখ্য, গত ১০ আগস্ট দুপুরে নগরীর ফলপট্টির আবাসিক হোটেল ফেয়ার স্টার থেকে নিহত তরুনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেলের দরজা ভেঙ্গে নিহত ঈশী (২১) এর লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই হোটেল মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাইদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশানর মোঃ রউফ, ডিবি’র সহকারী কমিশনার ফরহাদ সরদার, কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ মোঃ আওলাদ হোসেন সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।