বরিশালে নদী ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা যাচাই শীর্ষক সমীক্ষার উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বরিশাল বিভাগের নদীসমূহের নাব্যতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা হ্রাস, জলাভূমি বাস্তু পুনরূদ্ধার, সেচ ও ল্যান্ডিং সুবিধাদি বৃদ্ধি করে নদী ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্যতা যাচাই শীর্ষক সমীক্ষার উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল সার্কিট হাউজ হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর আয়োজনে ও বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল। বরিশাল অত্যন্ত প্রাচীন একটা জায়গা, এই বরিশালকে ঘিরে বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতির একটা বিরাট জায়গা জুরে আছে। এখানে যতো সংস্কৃতি ও সাহিত্য ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের অন্য কোনো অঞ্চলে তা সৃষ্টি হয়নি। কারন এখানের প্রকৃতিটাই অন্য রকমের। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে এই বরিশাল। অথচ আমরা খুব দুঃখজনক ভাবে লক্ষ্য করি যে আমরা যারা উত্তর বঙ্গের মানুষ আছি তারাও বলি পিছিয়ে পরা দক্ষিনাঞ্চল। এই যে ধান নদী খাল সেটাও এখন বরিশালে নাই। সেটাও উত্তর বঙ্গে চলে গেছে। সেটার পিছনে একটা বড় ধরনের ব্যবস্যা আছে। সেটা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে চাষ করা এবং উত্তোলন করতে গিয়ে যে যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে হয় সেটার একটা বড় ধরনের বানিজ্য আছে। এসময় তিনি আরও বলেন, বরিশালের কীর্তনখোলা নদী সহ সারা দেশে নদীর অবৈধ দখলকারীদের হাত থেকে মুক্ত করা হবে। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নদীর অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ অভিযান চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নদীর অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হবে। সারা দেশে বিভিন্ন নদীর ৬০ হাজার অবৈধ দখলদার রয়েছে। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০ হাজার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদী দখলদারদের দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। তাই দখলদারদের স্বেচ্ছায় সম্মানের সাথে নদীর দখল ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এই আহ্বানে সাড়া না দিলে নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারী দেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম তালুকদার, বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ও পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন। এছাড়া কর্মশালায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও গনমাধ্যম কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় বরিশাল বিভাগের নদীগুলোর নাব্যতা যাচাই-বাছাই করে ৩১টি নদীর ১৪৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৪৭০ কিলোমিটার স্থানে ড্রেজিং করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।