বরিশালে বাসদ কার্যালয়ের ভাড়া সংক্রান্ত জেরে ভাড়াটিয়া-মালিক পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় আহত-৫

বরিশালে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর অস্থায়ী কার্যালয়ের বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতার জের ধরে মূল ভাড়াটিয়া পক্ষের সাথে বাসদের হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৫/৬ জন আহত হয়। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ফকিরবাড়ি রোডের বাসদ কার্যালয়ে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত ৫ বছর ধরে ফকির বাড়ি রোডের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা হাসান ইমামের ভাড়া বাড়িতে বাসদের কার্যক্রম চলছে। একই বাড়িতে মাতৃছায়া নামে কিন্ডার গার্টেন রয়েছে। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুল চত্ত্বরে করোনা সেবা কার্যক্রম শুরু করে বাসদ। করোনাকালীন সেবা কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টায় প্রতিপক্ষ এসব করছে বলে বাসদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। বাসদের এই কার্যক্রমকে ব্যহত করতে একটি মহল এমন কাজ করছে। অপরদিকে ভাড়া বহির্ভূতভাবে বাড়ি দখল করা হচ্ছে বলে পাল্টা দাবী করেছেন মূল ভাড়াটিয়া।
পরবর্তিতে মূল ভাড়াটিয়া বাসদ কার্যালয়ের প্রধান গেটে তালা আটকে দেয়ার খবরে গতকাল দুপুরে বাসদের শুভাকাঙ্খি নজরুল ইসলাম খবর নিতে গেলে তার উপর হামলার অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনা ছড়িয়ে পরলে বাসদ চত্ত্বরে নেতাকর্মীরা জড় হয় এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে বাসদের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরে পুলিশ বাসদ নেতাকর্মীদের তাদের কার্যালয়ে ঢুকতে বাঁধা দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
ঐ বাড়ির ভাড়াটিয়া দাবীদার সুজিত কুমার বলেন, ডাঃ মনীষাকে বিজ্ঞান মঞ্চ আন্দোলনের অফিস করার জন্য একটি কক্ষ দেয়া হয়েছিলো। এরপর সে অবৈধভাবে বিনা ভাড়ায় ঐ বাড়ির মধ্যে নানা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভাড়া চাওয়ায় হেনস্তার অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতে আমার আত্মীয় সুভাশীষ ঘোষ বাপ্পীর উপর হামলা চালায় বাসদের নেতাকর্মীরা।
জেলা বাসদ সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, বাড়িটির ভাড়াটিয়া দাবীদার সুজিত কুমার বাসদের শুভাকাঙ্খি নজরুল ইসলামের উপর নিজেই হামলা করেছে। তাদের করোনাকালীন নানা ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। বহুদিন ধরেই চক্রান্ত চলছে। আমরা এখান থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। মানবতার বাজার খুলেছি, যাতে যার যা প্রয়োজন তা নিয়ে মানুষ উপকৃত হয়েছে। এখন আমরা বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ এবং করোনা রোগীদের জন্য ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমদের এই মানবিক কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাদের উচ্ছেদের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে একটি ষড়যন্ত্রকারী চক্র।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী আক্তারুজ্জামান হিরু বলেন, মনীষার কোন কার্যক্রমে সমস্যা নেই। তবে করোনা রোগী পরিবহনে এ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তারা এই এলাকায় করোনা কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে যেটা করার প্রয়োজন আমরা করবো। এ ব্যাপারে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে পুলিশের কর্মকর্তারা।