বরিশালে বিএনপি’র মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

বরিশাল বিএনপি’র মহানগর, জেলা উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবীর সহ ৮জনকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় বিক্ষোভ মিছিলের নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টার ঘটনায় সদর রোড এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে সকালে দলীয় কার্যালয় চত্ত্বরে এবং অশি^নী কুমার হলের সামনে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে জেলা উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপি। সমাবেশ চলকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের মিছিল এসে মিলিত হয় সমাবেশে। মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর মীর জাহিদের নেতৃত্বে একটি মিছিল সদর রোড অতিক্রমকালে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় সদর রোড এলাকায় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অন্তত ১০ জন নেতকার্মী আহত হয়। এসময় পুলিশ বিএনপি নেতা মীর জাহিদ ও পিন্টুকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে আরো ৬ জনকে গ্রেফতার করে।
সদর রোডের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জেলা ও মহানগর বিএনপি’র সমাবেশ স্থলেও গোলযোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশি লাঠিচার্জে নেতা-কর্মীরা সটকে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শেষে দুপুরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুনরায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার। বক্তৃতায় মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, তাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে বিনা উস্কানিতে পুলিশ নেতা-কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে গ্রেফতার করেছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিতেই পুলিশ বাহিনী দিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাঁধা দিচ্ছে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ মোঃ আওলাদ হোসেন জানান, বিক্ষোভ মিছিল থেকে ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মীর জাহিদুল কবির জাহিদ ও জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুর রহমান পিন্টু সহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওসি জানান সদর রোডে গোলযোগের ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।