বরিশালে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার ত্রুটিতে তিন হাজার পাসপোর্টধারীর তথ্য নেই

শাহীন হাফিজ ॥
প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এখানকার বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের তিন হাজার ব্যক্তির তথ্য না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পাসপোর্টধারীদের। প্রায় একমাস সেবা ব্যহত থাকার পর গত দু’দিন ধরে তথ্য না থাকা পাসপোর্টধারী ও নতুন পাসপোর্টধারীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষদের। গত ৩০ জুলাই থেকে বিভাগীয় এ পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারনে পাসপোর্ট সেবা চরম ভাবে ব্যহত হয়। গত সপ্তাহ থেকে পাসপোর্ট নিতে আসাদের জানিয়ে দেয়া হয় প্রায় ৩ হাজার পাসপোর্টের তথ্য সার্ভারে পাওয়া যাচ্ছে না। সার্ভারে যাদের তথ্য নেই তাদের পর্যায়ক্রমে ফোন করে আসতে বলা হবে এমন তথ্য জানিয়ে ধেয়া হয়। এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্ট নবায়নধারীরা। তারা তদ্বির-লবিং করে কেউ কেউ বাড়তি টাকা দিয়ে কাজ সারলেও অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে শূন্য হাতে ফেরত যাচ্ছে।
বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ কামাল হোসেন জানান, গত ৩০ জুলাই থেকে সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়ায় তারা ঢাকার আইটি সেকশনে যোগাযোগ করেন। কয়েক দিনের মধ্যে নতুন সার্ভার যুক্ত হলেও পুরাতন সার্ভার থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তির পাসপোর্টের তথ্য সার্ভারে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন যাদের তথ্য সার্ভারে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের পর্যায়ক্রমে ফোন করে এনে তথ্য সার্ভারে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দাবী করেন নতুন করে নবায়নকারীদের তথ্য সংযোজন কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। খুব দ্রুতই এ কাজ সম্পন্ন হবে বলে তার দাবী।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পাসপোর্টনবায়ন ও নতুন পাসপোর্টধারীদের দীর্ঘ লাইন। দিনভর অপেক্ষা করে কেউ কেউ নতুন করে তথ্য দিতে পারলেও গত দু’দিনের বিদ্যুৎ বিভ্রান্ট সহ নানান জটিলতায় ফিরে যেতে হচ্ছে। পাসপোর্ট নবায়নধারীরা জানান, দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে গড়ি-মসি করতে থাকেন এখানকার স্টাফরা। তাদের উৎকোচ না দিলে পাসপোর্ট সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের দায়িত্বরত আনসারদের সাথে অফিস স্টাফদের এক ধরনের যোগসাজসের মাধ্যমে দ্রুত গতিতে কাজ হয়। যারা ঐ আনসারদের মাধ্যমে কাগজপত্র প্রস্তুত করে জমা দেন তাদের কাজ দ্রুত হয়। নতুন করে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী বাকেরগঞ্জের রাসেল জানান, তিনি দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়িয়ে কম্পিউটার কক্ষে প্রবেশ করলে কাগজে ত্রুটি রয়েছে বলে পরে আসতে বলা হয়। অথচ তার সামনেই আনসার সদস্য একজন লোক নিয়ে আসলে তার কাজ দ্রুত করে দেয়া হয়। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে পুলিশের ভয় দেখানো হয়।
পাসপোর্ট রেনিউ করতে আসা কৃষ্ণ দাস জানান তার তিনি ৫ বছর পূর্বে পাসপোর্ট করে ছিলেন। এর মেয়াদ শেষ হওয়াতে গত ২৬ জুলাই টাকা জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন। ১৬ আগস্ট তার পাসপোর্টটি দেয়ার কথা থাকলেও প্রতিদিন গিয়ে ফেরত আসছেন। তিনি জানান চিকিৎসার জন্য সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করে অসুস্থতা নিয়ে পাসপোর্টের জন্য ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। কৃষ্ণ দাসের ন্যায় একই অবস্থা পাসপোর্ট নিতে আসা উজিরপুরের বাসিন্দা ওমর আলীর। তিনি জানান, তিনি জানান টাকা খরচ করে প্রতিদিন পাসপোর্টের আশায় বরিশাল আসলেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না।
পাসপোর্ট নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, চাকুরীর ভিসা পেয়েও পাসপোর্টের কারনে যেতে পারছেন না। এক মাস পূর্বে জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্ট করার জন্য অতিরিক্ত টাকা জমা দিলেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। এতে করে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। পাসপোর্ট না পেয়ে ভিসার টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে।
এদিকে বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের এ প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে ফায়দা লুটছেন এখানকার অসাদু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভোগান্তিতে পড়া পাসপোর্ট নিতে আসা লুৎফর রহমান জানান এ অফিসের লোকজনের কাছে কোনো কথা জানতে চাইলে কড়া ভাষায় উল্টা-পাল্টা জবাব দেয়। ভোগান্তিতে পড়া মানুষরা জানান, এ অফিসের লোকজনকে বাড়তি টাকা না দিলে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। তারা সিরিয়াল অনুযায়ী কাজ করার কথা বলে যে টাকা দিবে তার সিরিয়াল আগে দেবে টাকা না দিলে দিনের দিনের দিন গেলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।